আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বুলিয়ন বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে নেমে আসে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতনের মুখে পড়েছে বিশ্বখ্যাত এই নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমটি।
এর আগে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও, মুদ্রাস্ফীতির পরবর্তী তথ্য ও আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে ঋণ গ্রহণের খরচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছে। ফলে ডিসেম্বরে ফেডের পক্ষ থেকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা স্বর্ণের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এদিন প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (পিসিই) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে; স্পট মার্কেটে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।
