স্পোর্টস ডেস্ক:
আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তুঙ্গস্পর্শী উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ উদযাপনে আয়োজনে কোনো ঘাটতি রাখছে না আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে ক্রাশ করেছে অনলাইন টিকিট বিক্রির নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম। একই সঙ্গে মেসির বিদায় উপলক্ষ্যে বিশেষ জার্সিও উন্মোচন করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণার পর মেসিকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে রাজি করানোটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অসম্ভব বলে মনে হওয়া সেই কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি।
চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা মোট তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর বলিভিয়া, ৩ অক্টোবর বুরকিনা ফাসো এবং ৬ অক্টোবর বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। ৬ অক্টোবরের এই ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ঘোষিত স্কোয়াডে থাকলেও প্রথম দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবেন না তিনি।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডায়েরির তিনটি পাতায় আবেগঘন চিঠি পোস্ট করে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের রেশ ও পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে পিতা হোর্হে মেসির প্রয়াণে চরম মানসিক আঘাত পেয়ে আকাশি-সাদা জার্সি তুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। পরবর্তীতে এএফএ ও কোচ স্কালোনির যৌথ উদ্যোগে ঘরের মাঠে লাখো সমর্থকের সামনে মেসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর এই মহাযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বুয়েন্স আয়ার্সে জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, “আমরা সবাই জানতাম মেসি কী ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবুও প্রিয় দর্শকদের সামনে থেকে বিদায় নেওয়ার যে মানসিকতা সে দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাকে আমরা বুঝিয়েছি যে, শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ এখনই, নতুবা আর কখনোই নয়। সে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছে এবং শেষবারের মতো মাঠে নামতে সম্মতি দিয়েছে।”
