ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মিয়ানমারেই হতে হবে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান

মিয়ানমারেই হতে হবে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে আসলেও তাঁদের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার বা দেশের প্রধান লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দ্রুত, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে নিজ মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো।

শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি সংকটের মূল গভীরে গিয়ে সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ যে মানবিক সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে ঘটেছে, এর চূড়ান্ত সমাধান ও সমাপ্তিও মিয়ানমারেই হতে হবে।”

‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই বৈশ্বিক সম্মেলন ৫ অক্টোবর (সোমবার) পর্যন্ত চলবে। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পারভেজ করিম আব্বাসীর স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন উচ্চপর্যায়ের বক্তা, ৩০০ জন বিদেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি চিন্তাবিদ অংশ নিচ্ছেন। অতিথি সারিতে উপস্থিত রয়েছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ আন্তর্জাতিক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষকগণ।

সম্মেলনে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরাসরি কাজ শুরু করেছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ‘হেলথ কার্ড’ ও সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর রূপরেখা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসহ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানান, যার প্রায় ৮০ শতাংশ পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে আনন্দময় পরিবেশ তৈরি, বিনামূল্যে পাঠ্য উপকরণ বিতরণ এবং স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তরুণের দক্ষতাকে ‘ব্রেইন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে এআই, নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপে সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি।

দেশের নদী রক্ষা ও কৃষি অর্থনীতি জোরদারে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং শিল্পকারখানাকে গ্রিন সেক্টরে রূপান্তরের ফিরিস্তি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি ‘লিড সার্টিফাইড’ পরিচ্ছন্ন কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৫৩টিই বাংলাদেশে অবস্থিত।

আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিকে এমনভাবে রূপান্তর করা হবে যেন সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কেবল জনগণের সেবায় নিবেদিত থাকে।

সর্বশেষে, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে বাণিজ্য, জলবায়ু, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার এক অভিন্ন সমৃদ্ধির এলাকায় রূপান্তর করার আহ্বান জানান।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে