ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মার্কিন ডাক বিভাগে ১২৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি

মার্কিন ডাক বিভাগে ১২৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

অনলাইনে অবৈধভাবে কৃত্রিম ও জাল মার্কিন ডাকটিকিট এবং শিপিং লেবেল বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিষেবা বিভাগের (ইউএসপিএস) প্রায় ১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি) ক্ষতিসাধনের নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের ফৌজদারি জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পাকিস্তানভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের খানেওয়াল এলাকায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদনবিহীন একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। উক্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫০ লাখেরও বেশি জাল মার্কিন ডাকটিকিট বা শিপিং লেবেল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

আদালতের নথিতে বলা হয়, ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পার্সেলের আকার, ওজন কিংবা গন্তব্যের ওপর নির্ভর করে পোস্টাল ফি নির্ধারিত হয়। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তির ওয়েবসাইটটি প্যাকেজের ধরণ তোয়াক্কা না করে প্রতিটি জাল শিপিং লেবেল মাত্র ২ মার্কিন ডলারে বিক্রি করত। ফলে অসাধু ব্যবহারকারীরা বৈধ ডাক খরচের তুলনায় অত্যন্ত অল্প খরচে পণ্য পাঠাতে পারতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ওই ওয়েবসাইটটির সাথে ইউএসপিএসের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা বা অনুমোদন ছিল না।

তদন্তকারীদের নথিসূত্রে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে ৫ হাজার ২০০ জনেরও বেশি গ্রাহক উক্ত ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে প্রায় ৫১ লাখের বেশি জাল শিপিং লেবেল ক্রয় করেছিলেন। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সেবা সংস্থা ইউএসপিএসের সরাসরি ১২৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনস এক বিবৃতিতে জানান, “ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস ও আমাদের প্রসিকিউটরদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অবৈধ ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এর ডোমেইন বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।”

মার্কিন বিচার বিভাগ এই জালিয়াতিকে একটি ‘সহজ কিন্তু সুদূরপ্রসারী প্রতারণা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভিযুক্ত পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে প্রতারণার চক্রান্ত, জাল ডাক লেবেল তৈরি ও বিপণনের ৫টি অভিযোগ এবং অনলাইন জালিয়াতির (ওয়ার ফ্রড) ৪টি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জাল ডাকটিকিট বিক্রির দায়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর এবং অনলাইন প্রতারণার প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অভিযুক্তের। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে নির্দোষ বলেই গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ ও জালিয়াতির ঘটনায় এর আগে চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি কাণ্ডে দুই পাকিস্তানি নাগরিককে অভিযুক্ত করেছিল দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে