নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানীজুড়ে নাগরিক সেবা, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সার্বিক শৃঙ্খলা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে অভিনব ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে আকস্মিক ঝটিকা পরিদর্শন চালিয়েছেন তিনি। এই ঝটিকা সফরে হাসপাতাল থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোয়ার্টারে নানা অনিয়ম হাতেনাতে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন সরকারপ্রধান।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলা এই ম্যারাথন পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী একে একে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, সরকারি বাংলা কলেজ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার ঘুরে দেখেন। এর বাইরে তিনি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও পরিদর্শন করেন।
ধূমপায়ী চিকিৎসক বরখাস্ত ও নানা অসন্তোষ
পরিদর্শনকালে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গিয়ে এক নজিরবিহীন ঘটনার মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত কক্ষে গিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধূমপান করতে দেখতে পান তিনি। একই সঙ্গে কক্ষটির পরিবেশও ছিল চরম অপরিচ্ছন্ন। এই গুরুতর অসদাচরণ ও নিয়মের অবমাননার দায়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই অভিযুক্ত ডা. রফিকুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা ও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার করুণ চিত্র দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন তিনি। এছাড়া আজিমপুর কোয়ার্টার পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহ্বান ও হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে উপস্থিত হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।
এ ছাড়া মিরপুর-১০ নম্বরে সম্প্রতি হকারমুক্ত করা ফুটপাতগুলোও ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
সাড়ে চার ঘণ্টার এই আকস্মিক ও পরিদর্শনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে নাগরিক সেবা, জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
