ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ: দিল্লিতে বিরোধীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা

‘ভোট চুরি’র অভিযোগ: দিল্লিতে বিরোধীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে এবার দেশটির শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে সুনির্দিষ্ট পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি পেশ ও সরাসরি সাক্ষাতের প্রস্তাব রেখেছিল দলটি। তবে প্রধান বিচারপতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অপারগতা বা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ার এই পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি আবেদন ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার শুনানি চলমান থাকায় বিচারিক বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলাদা করে বসতে চাননি প্রধান বিচারপতি।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করা ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে, রাজধানী দিল্লিতে পরবর্তী শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভ কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট তারিখ ও অনুমতি নির্ধারণের দাবিতে তাদের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভের অনুমতি ও সময়সূচি সুনির্দিষ্ট করা না হলে নতুন করে সারা দেশে গণআন্দোলন শুরু করার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর নজিরবিহীন পুলিশি ধরপাকড় চলাকালে সিজেপি এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়।

বিতর্কের শীর্ষে ৬২ বছর বয়সী সিইসি জ্ঞানেশ কুমার

ভারতের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৬২ বছর বয়সী জ্ঞানেশ কুমার ১৯৮৮ সালে অত্যন্ত প্রভাবশালী ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে (আইএএস) যোগ দেন। উত্তর প্রদেশের একটি স্বনামধন্য সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দীর্ঘ সময় দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ভারত-শাসিত কাশ্মীর’ বিভাগে দায়িত্ব নেন এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের মূল আইনি খসড়া তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে অঞ্চলটির বিশেষ আধা-স্বায়ত্ত্বশাসিত মর্যাদা বাতিল করা হয়েছিল।

একই বছর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের ঐতিহাসিক রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মন্দির নির্মাণ তদারকি ও ট্রাস্ট গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দলের প্রধান করা হয়েছিল এই আইএএস কর্মকর্তাকে। তবে চলতি বছর ওই ট্রাস্টের বিরুদ্ধে মন্দির ট্রাস্টের তহবিল ও বিপুল অনুদানের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যান কুমার। তবে অবসরের মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ভারতের অষ্টাদশ সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক এক দিন আগে তড়িঘড়ি করে তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভারতের ২৬তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের বিতর্কিত নতুন প্যানেল আইনের আওতায় নিয়োগ পাওয়া তিনি প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যে আইনে নিয়োগ প্যানেল থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আইনটি পাসের সময় থেকেই প্যানেলের অন্যতম সদস্য ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন। নিয়োগ বিতর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালেই নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশে চরম রাজনৈতিক জলঘোলা তৈরি হয়। বিরোধীদের সুস্পষ্ট অভিযোগ—এই প্রক্রিয়ায় কৌশলে বিপুলসংখ্যক মুসলিম ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসহ কোটি কোটি বিরোধীপন্থী সাধারণ নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে, যাতে আসন্ন ও সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন বিজেপি ফায়দা তুলতে পারে।

সম্প্রতি ভারতের প্রথম সারির দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা পরিবর্তন ও কারিগরি কার্যক্রম নিয়ে সিইসি কুমারের দুজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার গত ১০ মাসে অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তি দাখিল করেছিলেন। তাঁরাও ১৩ কোটি ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে তালিকা থেকে হাওয়া হওয়া নিয়ে কমিশনের ভেতর প্রশ্ন তুলেছিলেন।

থমথমে নয়াদিল্লি, নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয়

বিরোধী দলগুলোর সর্বোচ্চ আদালত অভিমুখে পদযাত্রা এবং সিজেপির আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে নয়াদিল্লিতে। সংঘাত এড়াতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চলাচলে বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে আজ সোমবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীতে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার সশস্ত্র পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। পুরো মধ্য নয়াদিল্লি ও সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে বসানো হয়েছে শত শত উঁচু ধাতব ব্যারিকেড।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে