নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিভিন্ন সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা থাকায় যে কেউ কথা বলতে পারেন। তবে যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো মামলা দায়ের করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “লাইভে এসে তিনি একপর্যায়ে বলেছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা চায়নি, চাইলে নাকি দিতেন। যার কাছে চাঁদা দাবিই করা হয়নি, তিনি বলছেন বিএনপি চাঁদা চেয়েছে। এটি একটি ঢালাও বক্তব্য। তিনি যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করেন, তবে পুলিশ তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখবে।”
ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সালমান মুক্তাদিরের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি ভুক্তভোগী। ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীনে মানিকদী নামপাড়ায় ৩৫ কাঠার একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্বে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, মিরপুর-১-এর রাড্ডা ক্লিনিকে তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২৫ তারিখ মধ্যরাতের ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “দুষ্কৃতকারী বা দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক না কেন, সরকার তা আমলে নেবে না। অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিচার করা হবে।” পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্ম বন্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
