ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বৈশ্বিক সংকট: তিন মাসেই সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি

বৈশ্বিক সংকট: তিন মাসেই সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সার্বিক পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ বাড়লেও আশানুরূপ রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। এই রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে দ্রুত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়েছে সরকার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিট ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। অথচ আগের অর্থবছরের (২০২৫-২৬) একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার বদলে আগের নেওয়া ঋণের ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকায়।

এর মধ্যে কেবল চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নিট ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি বেড়ে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) থেকে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা নেওয়ায় সেখানে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকায়।

নতুন পে-স্কেল ও অক্টোবরের ঋণ চাপ

অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছর থেকে সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে গত জুলাই মাস থেকে বকেয়া (অ্যারিয়ার) হিসাব করে সরকারি কর্মচারীদের ভাতা প্রদান করা হবে। এই বকেয়া ও অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পরিশোধের খড়্গ থাকায় সদ্য শুরু হওয়া অক্টোবর মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তারল্য উদ্বৃত্তে সুদের হার হ্রাস

অন্যদিকে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সুনির্দিষ্ট সংকটের কারণে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা বজায় রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৬২ শতাংশে নেমেছে। কম সুদে ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে সরকার ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি।

বিনিয়োগে মন্দার কারণে ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক উদ্বৃত্ত তারল্য জমায় ব্যাংকগুলো এখন নিজেদের অতিরিক্ত টাকা অলস না বসিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে খাটাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফলে কিছুদিন ধরে ট্রেজারি বিলের সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মঙ্গলবারের নিলামে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলে সরকার ৭.৬৫ শতাংশ সুদে টাকা ধার করেছে। এ ছাড়া ১৮২ দিন মেয়াদি বিলে ৭.৭৫ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে ৭.৮৮ শতাংশ সুদে টাকা নেওয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অক্টোবরের আগের নিলামগুলোতে এসব সুদের হার যথাক্রমে ৮.১৩, ৮.৩৭ ও ৮.৫৯ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাজারে নতুন বাণিজ্যিক বিনিয়োগ কম থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর অতিরিক্ত নগদ তহবিল জমে রয়েছে। বিল ও বন্ডে টাকা বিনিয়োগের এই প্রতিযোগিতার কারণে সুদের হার কমে এলেও, অক্টোবর মাসে সরকারের বাড়তি ঋণের চাহিদার কারণে কমতে থাকা এই সুদহার আবারও উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে