ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বিশ্ব পরিবেশ দিবস: অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকার

জহিরুল ইসলাম রাতুল: আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি
এবং জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্বব্যাপী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিবছর দিনটি পালন করা হয়। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭৪ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্লাস্টিক দূষণ রোধকে কেন্দ্র করে। কারণ বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য এখন পরিবেশের জন্য অন্যতম বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিল, সমুদ্র এমনকি মানুষের খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। পরিবেশবিদরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হবে।

পরিবেশ সংকটের বৈশ্বিক চিত্র

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, বায়ু দূষণ, নদী দখল ও প্লাস্টিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, দাবানল, খরা, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশেও বাড়ছে ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ভরাট ও বৃক্ষনিধনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, বেশি বেশি গাছ লাগানো, নদী ও খাল রক্ষা, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তরুণদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও পরিবেশবাদী সংগঠন বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পরিবেশ রক্ষায় নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারণ ভবিষ্যৎ পৃথিবী তাদের হাতেই গড়ে উঠবে।

এখনই সময় সচেতন হওয়ার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার আহ্বান। পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি গাছ রোপণ, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো কিংবা পানি অপচয় রোধের মতো ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল। তাই প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করা মানে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করা। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এটাই হোক সবার অঙ্গীকার।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে