ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ফ্রান্সে শিক্ষা সংকট: বিক্ষোভে ১,৭৪৭ জন গ্রেপ্তার

ফ্রান্সে শিক্ষা সংকট: বিক্ষোভে ১,৭৪৭ জন গ্রেপ্তার

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন এবং আসন্ন বাজেটে শিক্ষায় অর্থ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের শুরু করা আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে চরম সহিংস রূপ ধারণ করেছে। দেশজুড়ে ৭ শতাধিক হাইস্কুলে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভবনের অংশবিশেষ, চলেছে ভাঙচুর এবং পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতা সামাল দিতে দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ টিএফ১ টেলিভিশনকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিশ্চিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পরিস্থিতি দ্রুত দাঙ্গা ও শহুরে সহিংসতার দিকে মোড় নিচ্ছে। তা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কঠোর মধ্যবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।”

শুরুতে রাজধানী প্যারিসে আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকলেও তা দ্রুত মঁপেলিয়ে, নঁত, মার্সেই, স্ট্রাসবুর্গ ও রেনের মতো প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানান, এটি এখন আর কেবল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর্যায়ে নেই; তা সরাসরি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপরাধে রূপ নিয়েছে। দেশের মোট ৩ হাজার ৭০০টি হাইস্কুলের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টি স্কুল কোনো না কোনোভাবে এই সহিংস বিক্ষোভের কবলে পড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতায় অন্তত ৬৫ জন শিক্ষা কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের বেলফোর্ট শহরে বিক্ষোভরতদের হামলায় মারাত্মক আহত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মাটিতে ফেলে একাধিকবার লাথি ও ঘুষি মারার ঘটনা সামনে এসেছে। উক্ত কর্মকর্তা হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভ দমনে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে চড়াও হয়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে পেট্রোল বোমা, কুঠার এবং শক্তিশালী আতশবাজি বা ‘মর্টার’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নান্টেসের নেলসন ম্যান্ডেলা হাইস্কুলে অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ২০ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক সরকার।

ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে অভিযোগ করে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনটি বহিরাগত ও অ-শিক্ষার্থীদের দ্বারা কব্জা করে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরাও নিশ্চিত করেছেন যে ভাঙচুর চালানো ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশ তাঁদের বর্তমান শিক্ষার্থী ছিল না।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমা এবং শ্রেণিকক্ষের প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তদুপরি শিক্ষা বাজেটে ছাঁটাইয়ের খবর তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। প্যারিসের পান্তিন ও দক্ষিণ অঞ্চলের অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বিবাদমান এই পরিস্থিতিতে ফরাসি বিচারমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল সংস্কারের সমুদয় খরচ দায়ী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায়ের জন্য সরকারি কৌঁসুলিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে দেশটির শক্তিশালী বেশ কয়েকটি শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠন (যেমন এসএনইপি-এফএসইউ ও সলিডেয়ারস) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে বিক্ষোভের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সলিডেয়ারস ট্রেড ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।

আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে ফরাসি শিক্ষাঙ্গনে দেখা দেওয়া এই অচলাবস্থা ও সহিংসতা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে