ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে মেলঁশোঁর স্বাগত

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে মেলঁশোঁর স্বাগত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফ্রান্সজুড়ে সরকারি হাইস্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের চলমান গণবিক্ষোভকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির চরম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ। আন্দোলনরত তরুণদের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে ফ্রান্সে ভোটাধিকারের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার বাছাইপ্রক্রিয়া বাতিল এবং সরকারি চাকরির অবসরের বয়স ৬২ থেকে কমিয়ে ৬০ বছরে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আগামী বছরের (২০২৭) এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্লেরমঁ-ফেরঁতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে ৭৫ বছর বয়সী এই পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ এসব কথা বলেন।

স্কুল ভবনের চরম জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ফরাসি সরকারের ধারাবাহিক বৈষম্যের প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা দেশজুড়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী নির্বাচনে ফরাসি তরুণ সমাজ বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার আভাস দেওয়ায় এই আন্দোলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে একাধিক স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠলে এ পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব সংঘাতের ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যসহ শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা মেলঁশোঁর দল ‘ফ্রঁস আনবো’ (La France Insoumise)-র বিরুদ্ধে নির্বাচনে সুবিধা পেতে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুললেও তা নাকচ করেছেন মেলঁশোঁ। তিনি বলেন, “আমরা এই আন্দোলনের মূল আয়োজক নই, তবে তরুণদের এই লড়াইকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।” সমাবেশে আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে মঞ্চে ডেকে এনে মেলঁশোঁ তাদের আন্দোলনকে ‘উচ্চমানের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিপক্বতার’ প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন।

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের তীব্র চাপে পড়ে ম্যাক্রোঁ সরকার ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ এবং স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তা অপর্যাপ্ত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পূর্ব প্যারিসের একটি হাইস্কুলের লাইব্রেরিয়ান দুনিয়া জর্জিওন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এপি-কে জানান, সরকারের এই পুলিশি দমনপীড়ন ফরাসি তরুণ সমাজকে রাজনীতিমুখী করে তুলছে, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

সমাবেশে মেলঁশোঁ ফরাসি পররাষ্ট্রনীতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতির তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। এছাড়া ন্যাটো জোটে ফরাসি সদস্যপদ রাখার বিরোধিতা করে মেলঁশোঁ বলেন, “ন্যাটোর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অভিযানের জন্য আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা সন্তানদের প্রাণ বিসর্জন দিতে পারি না।”

এদিকে ফ্রান্সের রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি বেশ জোরদার রূপ নিয়েছে। একই দিন (রোববার) ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টি ও তাদের মিত্র জোট ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যানকে তাঁদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে চয়ন করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন মধ্যপন্থী শিবির থেকে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে