আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতি এবং শিক্ষা খাতের শিক্ষক সংকটকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ মারাত্মক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকা, ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকাসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস, মার্সেই, বোর্দো, লিওঁ ও উত্তরের লিল শহরের একাধিক অংশে আংশিক ও নৈশকালীন কারফিউ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সরকারের পক্ষে জরুরি বৈঠক শেষে দেশের জনশৃঙ্খলা ফেরাতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক এই কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ ঘোষণা করেন।
প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে চলাচল নিষিদ্ধ
প্যারিস পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কারফিউ বলবৎ থাকবে এবং রাত ৮টা থেকে সকল প্রকার অনুমতিহীন সভা-সমাবেশ ও জমায়ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসের বাইরে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে তরুণদের জনসমাগম ও অহেতুক চলাচল সীমিত করতে বিশেষ নৈশকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও ২৫০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার
গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চরম উগ্র ও সহিংস আকার ধারণ করে। ফরাসি বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সের্ঝ পাপাঁর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতা ও লুটপাটে দেশটির প্রায় ৩ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লিমোজ শহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঐতিহাসিক ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সারাদেশে অন্তত ৫ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অংশ নেন। পুলিশ ও জেন্ডারমেরির সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে ১ হাজারের মতো পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।
‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠী’: প্রধানমন্ত্রী
দেশজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা নিয়ে সোমবার জরুরি বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সাংবাদিকদের বলেন, “আসন্ন ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশে গভীর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উগ্র-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই সহিংস আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে। তবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা তহবিলের আশ্বাস দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান প্রেসিডেন্টের
এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ স্বীকার করেন যে, সপ্তাহান্তে দেশের কয়েকটি প্রধান শহরে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি এবং ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। তবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তাঁর সেই পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করে তাকে রাজপথের ব্যারিকেড ও লুটপাট কঠোরহস্তে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও আগাম সতর্কতা না পাওয়ার ব্যর্থতার বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়।
ফ্রান্সে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি থাকতে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন অস্থিরতা সরকারকে এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
