ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » প্লেগে রাশিয়ায় নারী মৃত্যু: শঙ্কায় বিশ্ব

প্লেগে রাশিয়ায় নারী মৃত্যু: শঙ্কায় বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রাশিয়ার একটি স্পর্শকাতর সংক্রামক ব্যাধি গবেষণা কেন্দ্রে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে এক তরুণী টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে অবস্থিত বায়োলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার বিষয়ে মস্কোর কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য তলব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

গত সপ্তাহে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী গবেষক দারিয়া শিপিলোভা (Daria Shipilova) রহস্যজনকভাবে মারা যান। রাশিয়ার স্বাধীন গণমাধ্যম ‘পিপল অব বৈকাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি গ্লাস টেস্ট টিউব ভেঙে গেলে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ (Yersinia pestis)-এর সংস্পর্শে এসে নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত হন দারিয়া। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দারিয়ার সংস্পর্শে আসা বা একই সেন্টারে কর্মরত অন্তত ২০০ জন কর্মী ও গবেষককে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তথ্যে এই সংক্রমণের কথা বলা হলেও রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সুনিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মস্কোকে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার কাছ থেকে প্রাপ্ত হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, ইরকুতস্ক অঞ্চলে কোনো বিপজ্জনক মহামারির সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি।

এদিকে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্রুতই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। একই সাথে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে ইরকুতস্কের ল্যাব দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন ও তথ্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্লেগ একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ও মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ, যার অন্যতম সংক্রামক রূপ হলো ‘নিউমোনিক প্লেগ’। এটি মূলত হাঁচি-কাশি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে অতি দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশে এ রোগের কোনো ঐতিহাসিক প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড নেই। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে কখনো প্লেগ ছড়ায়নি। তবে ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৮ সালে কলকাতায় বিউবনিক প্লেগ মহামারি আকার ধারণ করলে তৎকালিন পূর্ব বাংলায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ভারতের সুরাটে প্লেগ দেখা দিলে বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে সফলভাবে সংক্রমণ ঠেকানো হয়েছিল। এছাড়া ২০০৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঁশবনে ফুল ফোটার পর অস্বাভাবিক ইঁদুর বৃদ্ধির কারণে প্লেগের ঝুঁকি দেখা দিলেও তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে তা রোধ করা সম্ভব হয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে