ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » প্রসূতির মৃত্যু: পেটে গজ রেখে সেলাই, ৫৫ হাজারে ‘আপস’

প্রসূতির মৃত্যু: পেটে গজ রেখে সেলাই, ৫৫ হাজারে ‘আপস’

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার পাঁচ মাস পর বীথি আক্তার (২৩) নামের এক শিক্ষানবিশ নার্সের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—ভুল চিকিৎসার নির্মম শিকার ওই রোগীর পরিবারের সঙ্গে মাত্র ৫৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে একটি ‘আপস চুক্তি’ করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত ওই আপসনথিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা অনুদান পাওয়ার পর ভবিষ্যতে নিহতের পরিবার ফমেক হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ কিংবা বাড়তি আর্থিক দাবি তুলতে পারবে না।

নিহত বীথি আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জ্যেতিনবর্দিপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফমেক হাসপাতালেই শিক্ষানবিশ বা ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ মে ফমেক হাসপাতালে বীথির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন একজন গাইনি চিকিৎসক ও একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। ওই দিন বীথি একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেও অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত তাঁর পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই চরম শারীরিক যন্ত্রণা ও তীব্র জটিলতায় ভোগছিলেন তিনি। বারবার চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলেও সাধারণ সমস্যা বলে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রায় দেড় মাস পর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করা হলে তাঁর পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

পেটে গজ শনাক্ত হওয়ার পর গত ১২ জুলাই বীথিকে পুনরায় ফমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং ১৫ জুলাই দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে সেই গজটি বের করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় এই অস্ত্রোপচারের রাতেই ভুক্তভোগীর অসহায় পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক কিংবা কৌশলে উক্ত ‘আপস নামায়’ স্বাক্ষর নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে ২২ জুলাই তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ফের ফমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। সেখানে অবস্থার সংকটজনক হলে গত ৪ অক্টোবর বীথিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান তিনি।

টাকার বিনিময়ে আপসের বিষয়টি স্বীকার করে নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমার স্ত্রী ফমেক হাসপাতালেই ইন্টার্ন করছিল এবং ভবিষ্যতে সেখানেই তাঁর ক্যারিয়ারের বিষয় ছিল। ওই সময় আমার কাছে স্ত্রীর চিকিৎসা করানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থও ছিল না। স্ত্রীর জীবন বাঁচানো ও তাঁর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমি স্ট্যাম্পে সই করতে বাধ্য হয়েছিলাম। তখন বুঝিনি এত বড় বিপর্যয় ঘটবে। এখন সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে। আমি ওই দায়ী চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে স্ট্যাম্প চুক্তির বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, “টাকা দিয়ে আপস করার বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে ফেসবুকে বিষয়টি ছড়ানোর কথা শুনেছি।” তিনি জানান, বীথির চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ঢামেকে পাঠানো হয়েছিল। প্রসূতির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল ছিল কি না—তা তদন্তে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে