ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: ১০ বছরের কারাদণ্ডেই থাকছেন ইনু

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: ১০ বছরের কারাদণ্ডেই থাকছেন ইনু

নবপ্রকাশ ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। সংক্ষিপ্ত রায়ে তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি পৃথক অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ থাকায় তাকে মোট ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, আসামি ইনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রামাণিক দলিল ও সাক্ষ্যপ্রমাণে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিপীড়নের ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ দায় প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অপরাধে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অপর এক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের চুক্তি ও ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততার দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার ৩৯ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র এবং তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছিল। মামলায় হাসানুল হক ইনুই ছিলেন একক আসামি।
যেসব অভিযোগে সাজা:
প্রসিকিউশনের আনা মোট আটটি অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইনু আন্দোলনকারীদের দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন। তিনি ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে দেশব্যাপী কারফিউ জারি, দেখামাত্র গুলির নির্দেশ, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ২৭ জুলাই দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে ইনু আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি, সন্ত্রাসী, জামায়াত-বিএনপি’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া ১৯ ও ২৯ জুলাই এবং ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভায় উপস্থিত থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূল ভূমিকা পালন করেন।
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যায় ইনুর ফোন:
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই হাসানুল হক ইনু নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিন কুষ্টিয়ায় স্থানীয় পুলিশ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডাররা ছাত্র-জনতার মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।
এতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবলু ফরাজী এবং ইউসুফ শেখ নামের ৬ জন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হামলায় রাইসুল হকসহ বহু আন্দোলনকারী গুরুতর আহত ও নির্যাতনের শিকার হন। ইনুর উসকানি, নির্দেশ ও ষড়যন্ত্রেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে