ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পূর্ণতার শেষ অধ্যায়

পূর্ণতার শেষ অধ্যায়

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিদায় বোধ হয় সব সময় সবকিছুর সমাপ্তি নয়! কখনও কখনও তা স্মৃতির সিন্দুকে এক অনন্ত ভালোবাসা জমা রাখার নিভৃত আয়োজন। গতকাল বুধবার বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের আকাশি-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি।

খেলার শেষে মাঠের সেই চেনা পরিবেশ থেকে বিদায় নিয়ে পরিবার—স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তান থিয়াগো, চিরো ও মাতেওকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে চোখের কোণে জমা হওয়া নোনা জল জামার হাতায় মুছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্তের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে মেসি বলেন, “আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টের ও দুঃখের দিনটি পার করছি। কারণ আজ সেই দিন, যেদিন আমি জাতীয় দল ও আপনাদের সবাইকে বিদায় জানাচ্ছি। জাতীয় দলের এই ঐতিহাসিক জার্সি ও সম্মান রক্ষা করার প্রতিটি মুহূর্তকে আমি মিস করব। তবে এখন থেকে আমি আপনাদের সারিতে, ওপাশে গিয়ে দাঁড়াব।”

দেশের হয়ে শেষ ম্যাচে নামার আগে থেকেই বুয়েনস আইরেসের বাতাসজুড়ে ছিল এক অপার্থিব বিষাদময় আবহ। জাতীয় দলের ট্রেনিং সেন্টার থেকে টিম-বাসে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আসার পথে বাইরে হাজার হাজার ভক্তের ভালোবাসার জোয়ার দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। গ্যালারির ৮৫ হাজার কণ্ঠের ‘মেসি… মেসি…’ গর্জনের মাঝে ম্যাচের ১০ম মিনিটে খেলা থামিয়ে দুই দলের ফুটবলাররা মেসিকে একযোগে লাল গোলাপ উপহার দিয়ে বিশেষ গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্বেও নিজের জাদুকরী শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে গেছেন ফুটবল রাজপুত্র। বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে নিখুঁত এক চিত্রনাট্যের বৃত্তপূরণ করেন মেসি। নিজের বিদায়ি ম্যাচের পাশাপাশি এটি ছিল দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা নিকোলাস ওতামেন্দিরও শেষ ম্যাচ; ম্যাচের প্রথম গোলটি এই পুরোনো কমরেডকে দিয়েই করান তিনি। দ্বিতীয় গোলটি সাজিয়ে দেন তরুণ উদীয়মান তারকা নিকো পাজের পায়ে, যাকে বিশ্বফুটবল এরই মধ্যে মেসির যোগ্য উত্তরসূরি ভাবতে শুরু করেছে। আর শেষ অঙ্কটি তিনি লেখেন নিজের চেনা স্পট-কিক থেকে—যে পেনাল্টি নিয়ে ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁকে অজস্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেই পেনাল্টি থেকেই স্পট-কিকে বল জালে জড়িয়ে ক্যারিয়ারের সমস্ত অপূর্ণতা ও বিষাদের হিসাব চুকিয়ে দেন মহাতারকা।

ম্যাচ শেষের শেষ বাঁশি বাজতেই ঘটে এক বিরল ঘটনা। ম্যাচ রেফারি স্বয়ং এগিয়ে এসে মেসির হাতে স্মারক হিসেবে তুলে দেন রেফারির ব্যবহৃত সেই ঐতিহ্যবাহী লাল ও হলুদ কার্ড এবং ম্যাচের অফিশিয়াল বল। ওদিকে বুয়েনস আইরেসের রাতের আকাশ চিরে ভেসে ওঠে ড্রেন শো-এর রোশনাইয়ে সাজানো দুটি চিরন্তন শব্দ—‘গ্রাসিয়াস মেসি’ (ধন্যবাদ মেসি)।

রোজারিওর এক চিলতে ধুলোবালি মাখা গলি থেকে হরমোনজনিত সমস্যা সামলে শুরু হওয়া যে রূপকথার জন্ম হয়েছিল, ২০৮টি ম্যাচ আর ১২৬টি গোলের রাজকীয় অর্জনের পর তা এসে থামল মনুমেন্তালের আবেগঘন আঙিনায়। ট্রফি না পাওয়ার যাতনা থেকে দেশের হয়ে বিশ্বজয়—সব মায়া পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ‘আছেন’ থেকে ‘ছিলেন’ হয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। তবে দেশের জার্সিতে বুট জোড়া তুলে রাখলেও আমেরিকান ক্লাব ইন্টার মায়ামির গোলাপি জার্সিতে এখনও ফুটবল রোমান্টিকদের মুগ্ধ করতে নিজের আনন্দের জন্য খেলা চালিয়ে যাবেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে