ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পাইলট, মিস্ত্রি ও দন্তচিকিৎসক: যেভাবে বিমান রক্ষা পায় দুর্ঘটনার হাত থেকে

পাইলট, মিস্ত্রি ও দন্তচিকিৎসক: যেভাবে বিমান রক্ষা পায় দুর্ঘটনার হাত থেকে

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ইসরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ককপিটের ভেতর মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে ১৭৪ জন যাত্রীসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করার এক ভয়াবহ চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মূল পাইলট দরজার বোতাম চেপে ক্রু ও যাত্রীদের সংকেত দিলে, কয়েকজন বীর যাত্রী ও অফ-ডিউটি পাইলট ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহকারী পাইলটকে প্রতিহত করেন। উড়োজাহাজটি পরবর্তীতে চরম নিয়ন্ত্রহীন অবস্থা থেকে সামলে নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ওমানের নাগরিক ওই সহকারী পাইলট উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৭৪ জন আরোহীসহ পুরো বিমানটি আকাশে ধ্বংস করে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন।

ককপিট সূত্রের বরাতে জানা যায়, অতর্কিত হামলার শিকার ভারতের নাগরিক মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছার মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলার বোতামে চাপ দিতে সক্ষম হন। বার্তা পেয়েই কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও কেবিন ক্রু তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারী সহ-পাইলটকে চেপে ধরেন। ককপিটে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ছিলেন একজন প্লাম্বার (পানির লাইনের মিস্ত্রি), একজন দন্তচিকিৎসক, ছুটিতে থাকা একজন ব্রিটিশ পাইলট এবং দুজন ‘রিলিফ পাইলট’।

উদ্ধারকারীদের একজন দন্তচিকিৎসক শোটা মুসায়েভ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “ভেতরে ঢুকে দেখি মেঝোজুড়ে রক্তের বন্যা। মূল পাইলট মাচ্ছারকে উপরিউপরি ছুরিকাঘাত করছিল সহকারী পাইলট। আমরা আর কয়েক সেকেন্ড দেরি করলে হয়তো মাচ্ছারকে আর জীবিত পাওয়া যেত না।” যাত্রীরা দ্রুত হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপটাই দিয়ে হামলাকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন।

হামলার জেরে বিমানটি তীব্র গতিতে নিচের দিকে খাড়াভাবে নেমে আসছিল। এ সময় বিমানের যাত্রী হিসেবে থাকা একজন জলমিস্ত্রি ইয়ানিভ হায়ুন ককপিটে লাফিয়ে পড়ে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কন্ট্রোল প্যানেলের হ্যান্ডেল পেছনের দিকে টেনে ধরার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা ছুটিতে থাকা এক ব্রিটিশ পাইলট এবং দুজন অন-ডিউটি ‘রিলিফ পাইলট’ ককপিটে ঢুকে দ্রুত ফ্লাইট প্যানেলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিপজ্জনকভাবে খাড়া নেমে আসা বিমানটিকে টেনে ওপরের দিকে তুলে এর ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ও এভিয়েশন সূত্রের তথ্যমতে, সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর গুরুতর আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছারের দেহে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। অন্যদিকে হামলাকারী ওমানি সহ-পাইলটকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে দ্রুত গতিতে খাড়া নিচে নেমে আসার কারণে উড়োজাহাজটির পেছনের দিকের রাডারের সিংহভাগ অংশ ছিঁড়ে উপড়ে যায়। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বিমানটি মাঝআকাশে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে না পড়ায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বৈশ্বিক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের সাবেক পাইলট ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টিভ অ্যারোয়ো বলেন, “উড়োজাহাজটি যেভাবে অসম্ভব তীব্র গতিতে নিচে নামছিল, তা চূর্ণবিচূর্ণ না হয়ে অক্ষত থাকাটা এক অলৌকিক ঘটনা।” অন্য এক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ গুজেটি জানান, ঘটনার সময় বিমানটি যথেষ্ট উঁচুতে ছিল বলেই যাত্রীরা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন; এটি যদি ১০ হাজার ফুটের নিচে নেমে যেত, তবে কোনোভাবেই আর ককপিট থেকে এর ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে