ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পবিত্র “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে এখন মুখরিত সৌদি আরবের পবিত্র মিনা উপত্যকা

পবিত্র “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে এখন মুখরিত সৌদি আরবের পবিত্র মিনা উপত্যকা

সোমবার (২৫ মে) হজের ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ বা তারবিয়াহ দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমবেত হয়েছেন তাঁবুর শহর মিনায়। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজের মূল কার্যক্রম।

জিলহজ মাসের ৮ তারিখ ভোর থেকেই ইহরাম বেঁধে হাজিরা দলে দলে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। কেউ বাসে, কেউ পায়ে হেঁটে পবিত্র কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মিনায় পৌঁছান। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষের এই যাত্রা পুরো মিনা উপত্যকাকে পরিণত করেছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে।

বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের মানুষ এক কাতারে মিলিত হয়েছেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। মুসল্লিরা নিজ নিজ নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করছেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে হাজিরা সোমবার দিন ও রাত মিনায় অবস্থান করবেন।

নিয়ম অনুযায়ী মিনায় অবস্থানকালে হাজিরা জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন মঙ্গলবার ফজরের নামাজ আদায় করবেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন ‘আরাফার ময়দানে অবস্থান’-এর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই এই সময়টুকু মুসল্লিরা আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতে কাটান।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনার তাঁবু নগরী ছেড়ে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হবেন। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে আরাফায় অবস্থানের মাধ্যমে। সেখানে দিনভর অবস্থানের পর হাজিরা মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন করবেন এবং শয়তানকে উদ্দেশ্য করে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

লাখো মানুষের এই মহাসম্মিলন নির্বিঘ্ন করতে সৌদি আরব নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থা। চিকিৎসা, খাদ্য সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং যাতায়াত নিশ্চিত করতে মিনা ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের পরিবহন ও আবাসনের সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

তাঁবুগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত গরম কিংবা ভিড়ের কারণে কোনো ধরনের দুর্ভোগ তৈরি না হয়। বিভিন্ন স্থানে মেডিকেল ক্যাম্প, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা এবং দিকনির্দেশনামূলক সেবা চালু রাখা হয়েছে।

এ বছর বিদেশ থেকে আগত প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রীর পাশাপাশি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজার হাজার মুসল্লিও হজে অংশ নিয়েছেন। গত রোববার মক্কায় পৌঁছানো হাজিরা কাবা শরিফে তাওয়াফে কুদুম সম্পন্ন করে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর এই মিলনমেলা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনি যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—মানুষের চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন মহান রবের দিকেই।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে