ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পতন থেকে পুনরাগমন: জীবন যুদ্ধে জয়ী ৫ তারকা

পতন থেকে পুনরাগমন: জীবন যুদ্ধে জয়ী ৫ তারকা

বিনোদন ডেস্ক:

প্রেমে ব্যর্থতা, পড়াশোনায় প্রত্যাশিত ফলের অভাব, ক্যারিয়ারের কঠিন লড়াই কিংবা হাজারো চেষ্টার পরও কাক্সিক্ষত স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়া—মানুষের জীবনে ব্যর্থতার রূপ ভিন্ন হলেও এর অভিজ্ঞতা সার্বজনীন। জীবনের কোনো না কোনো মোড়ে এসে আমাদের অনেকেই থমকে দাঁড়াই, হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে নিজের প্রতিভা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করি। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একটি ব্যর্থতা বা প্রত্যাখ্যান কখনই কোনো জীবনের শেষ কথা হতে পারে না।

ইংরেজি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে—”Failure is the pillar of success” (ব্যর্থতাই সাফল্যের ভিত্তি)। বাধার মুখে থেমে না গিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন নতুন পথ খোঁজাই যে চূড়ান্ত সাফল্যের আসল রহস্য, তা বিশ্বজুড়ে বহু কিংবদন্তির জীবন দিয়ে প্রমাণিত। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫ জন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তির ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য গল্প, যা আপনার হতাশা দূর করে নতুন উদ্দীপনায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

১. জে কে রাওলিং: বহু প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে আজ বিশ্বজয়ী লেখক

আজ বিশ্বজুড়ে ছোট-বড় সবার কাছে ‘হ্যারি পটার’ এক জাদুকরী ও পরিচিত নাম। কিন্তু এই বইটির রচয়িতা জে কে রাওলিংয়ের শুরুর পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন পারিবারিক বিপর্যয় ও চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এডিনবরায় ছোট্ট মেয়েকে সামলানোর ফাঁকে ফাঁকে তিনি হ্যারি পটারের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন। পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের পর একের পর এক প্রকাশনা সংস্থা তাঁর লেখাটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু রাওলিং হাল ছাড়েননি। অবশেষে ১৯৯৭ সালে ব্লুমসবারি প্রকাশনী ঝুঁকি নিয়ে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’ প্রকাশ করে। এরপরের ইতিহাস সবার জানা—বিশ্বজুড়ে বইটির বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। রাওলিংয়ের এই অবিচল সংগ্রাম শেখায়, প্রত্যাখ্যানের মুখে সাময়িক ভেঙে পড়লেও সঠিক সুযোগের সন্ধানে নিরলস কাজ করে যেতে হবে।

২. মাইকেল জর্ডান: স্কুলের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন বাস্কেটবলের সর্বকালের সেরা তারকা

বাস্কেটবল আদালতের অনন্য জাদুকর এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের সাফল্যের সূচনালগ্নে লুকিয়ে আছে এক বড় ধরণের প্রত্যাখ্যান। স্কুলে পড়ার সময় শারীরিক গঠন ও বয়সের সমীকরণে প্রথমবার স্কুলের মূল বাস্কেটবল দলে সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু সেই ব্যর্থতা জর্ডানকে থামিয়ে দিতে পারেনি; বরং তিনি নিজের শারীরিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির অনুশীলনে দ্বিগুণ মনোযোগ দেন। পরবর্তীতে নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে এনবিএ (NBA)-তে যোগ দিয়ে শিকাগো বুলসের হয়ে টানা ছয়বার এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হন। জর্ডানের জীবন থেকে শিক্ষণীয় হলো—প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হওয়া মানেই সব সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে ধারাবাহিক চর্চা চালিয়ে যাওয়াই আসল সফলতা।

৩. স্টিভ জবস: নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত হওয়ার ধাক্কা সামলে নতুন ইতিহাস

প্রযুক্তি দুনিয়ার বিপ্লব ঘটানো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। ১৯৮৫ সালে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে নীতিগত মতবিরোধের জেরে চরম অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অ্যাপল থেকে বরখাস্ত করা হয় তাঁকেই। নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে অপমানজনক বিচ্ছেদ যেকোনো মানুষের মন ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু জবস থেমে না থেকে ‘নেক্সট’ (NeXT) নামে একটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়েন এবং অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘পিক্সার’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসামান্য সাফল্য লাভ করেন। পরবর্তীতে অ্যাপল নিজেই ‘নেক্সট’-কে কিনে নিলে রাজকীয়ভাবে অ্যাপলে প্রত্যাবর্তন করেন জবস। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি বলেছিলেন—সেই চাকরিচ্যুতিই তাঁকে নতুন করে ভাবার এবং কাজ শুরু করার দারুণ সুযোগ দিয়েছিল।

৪. থমাস আলভা এডিসন: ১,৬০০ বারের বেশি ব্যর্থ পরীক্ষার পর বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কার

ব্যবহারিক কাজে উপযোগী বৈদ্যুতিক বাতির সফল উদ্ভাবক থমাস আলভা এডিসন ছিলেন এক অনন্য একনিষ্ঠ গবেষক। বাতির ফিলামেন্টের জন্য উপযুক্ত উপকরণ খোঁজায় তিনি ও তাঁর গবেষক দল টানা পরীক্ষা চালিয়ে যান। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের নথি অনুযায়ী, ১৮৭৯ সালে বাতির জন্য টেকসই ফিলামেন্ট আবিষ্কারের গবেষণায় তারা ১,৬০০-রও বেশি বৈচিত্র্যময় বস্তু পরীক্ষা করেন। ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা সত্ত্বেও প্রতিটি ভুল পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ডেটা বা তথ্য বিশ্লেষণ করে অবশেষে কার্বনাইজড বাঁশ দিয়ে বাতির সফল কার্যক্ষম সংস্করণ তৈরিতে সক্ষম হন এডিসন। এডিসনের জীবন প্রমাণ করে—পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না পেলেও তা বৃথা যায় না; প্রতিটি চেষ্টা ভুল সংশোধন করে চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৫. অপরাহ উইনফ্রে: সংবাদ পাঠিকা থেকে বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন আইকন

বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রেই আজ বিশ্বজুড়ে স্বনামধন্য এক নাম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রত্যাখ্যাত ও পদচ্যুত হয়েছিলেন। তবে সংবাদ পাঠিকার কাজ না পেলেও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং নিজের বাচনভঙ্গি ও মানুষের অনুভূতি ছোঁয়ার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ‘টক শো’ উপস্থাপনায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে তাঁর উপস্থাপনায় ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’ তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যম, সিনেমা ও বই প্রকাশের মতো বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। অপরাহর ঘটনা থেকে শেখা যায়—এক ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য না মিললে নিজের শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্য ক্ষেত্রে নিজেকে মেলে ধরাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

ব্যর্থতাই নতুন শুরুর সুবর্ণ সুযোগ

এই প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনের চ্যালেঞ্জ বা অভিজ্ঞতার ধরণ এক ছিল না। কারও সামনে এসেছে কঠোর সামাজিক প্রত্যাখ্যান, কারও পেশাগত বিপর্যয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সফলতার পেছনে ছিল হাজারো ব্যর্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে তাঁদের সকলের জীবনের একটি কমন দিক হলো—ব্যর্থতার পর তাঁরা থেমে না গিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত ও কাজের ওপর দৃঢ় ছিলেন।

মনে রাখা জরুরি, চেষ্টা চালানো যেমন আবশ্যিক, তেমনি ভুল থেকে শেখা, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে রূপরেখা বদলানো এবং নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই যেকোনো ব্যর্থতাকে জীবনের ইতি হিসেবে না দেখে, এটিকে নতুন করে সঠিক পথে যাত্রার এক অন্যতম পথ প্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে