নিজস্ব প্রতিবেদক: আফতাবনগর প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লট মালিক ও গ্রাহকদের একাংশ ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নোটিশ ছাড়াই প্লট বরাদ্দ বাতিল, অতিরিক্ত অর্থ দাবি, পেমেন্ট গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা এসব অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা—ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিদ্দিক আহমেদ, ডিরেক্টর (প্ল্যানিং ও রেগুলেটরি) মাজহার ইসলাম এবং ডিরেক্টর (লিগ্যাল) মতিউর রহমান—দীর্ঘদিনের গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণামূলক ও বেআইনি আচরণ করছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী কোনো গ্রাহক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও অন্তত ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ ছাড়া বরাদ্দ বাতিল করা যায় না। একই সঙ্গে বিলম্বে কিস্তি পরিশোধের সুযোগ দিয়ে ১০ শতাংশ সুদসহ অর্থ গ্রহণের বিধানও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ, শোকজ বা ব্যক্তিগত শুনানি ছাড়াই প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকদের অর্থ গ্রহণ না করে পরে তাদের ‘ডিফল্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বনির্ধারিত মূল্যের বাইরে গিয়ে প্রতি কাঠায় ২০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও প্রতারণামূলক। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “প্রাইস রিভিশন” এর নামে নতুন করে অতিরিক্ত অর্থ আরোপের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অতীতে অনানুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগের দায়ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানান, গত প্রায় দুই দশকে আফতাবনগর প্রকল্পে প্লট বাতিলের তেমন নজির না থাকলেও নতুন ব্যবস্থাপনা পুরোনো অনিয়ম আড়াল করতে হঠাৎ করেই বরাদ্দ বাতিলের পথ বেছে নিয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম জহিরুল ইসলামের সুনাম ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা রেখেই বহু মানুষ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে গ্রাহকদের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, ওই বৈঠকে কোনো প্লট বাতিল করা হবে না এবং আগের শর্ত অনুযায়ী সময় দিয়ে বকেয়া অর্থ গ্রহণ করে প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে গ্রাহকদের আলাদাভাবে ডেকে উচ্চমূল্য চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পূর্বের প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে প্লট রেজিস্ট্রেশন না দেওয়া, আংশিক অর্থ গ্রহণের পর দীর্ঘ সময়েও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না করা এবং অর্থ পরিশোধের পরও প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, নির্ধারিত কবরস্থানের জমির অংশ প্লট হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে, যা লেআউট প্ল্যান যাচাই করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ইউটিলিটি ও ওয়েলফেয়ার ফি দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং ট্রান্সফার ফি প্রতি কাঠায় ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মামলা ও সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বৈধ পেমেন্ট অর্ডার থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহকের অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তাদের কাছে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বৈঠকের অডিও রেকর্ড, প্রতিশ্রুতির ভয়েস রেকর্ড এবং অফিসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, আইন অনুযায়ী বিরোধ আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও কোম্পানি বরাদ্দপত্রে নিজেদের ইচ্ছামতো শর্ত আরোপ করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা নোটিশ ছাড়া বাতিল হওয়া সব প্লট পুনর্বহাল, আগের মূল্যে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা বন্ধ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা রাজউক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
