বিনোদন ডেস্ক:
গত বছর ভারতের কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল চিত্রনায়িকা কাজী নওশাবা আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’। এবার নিজ দেশের প্রেক্ষাগৃহে আসছে তাঁর অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) দেশের প্রেক্ষাগৃহ ও সিনেপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত মিষ্টি প্রেমের এই সিনেমাটি। এতে একটি বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওশাবা।
নব্বইয়ের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনার পটভূমিতে তৈরি হয়েছে মুনতাসীর আকিব পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘চিরকুট’। সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নওশাবা বলেন, “নির্মাতা আকিব আমার আদরের ছোট ভাই, স্নেহের জায়গা থেকেই মূলত তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজটিকে সমর্থন জানাতে এতে যুক্ত হওয়া। তবে চরিত্রটি ছোট হলেও গল্পের মোড় ঘোরাতে ভূমিকা রাখবে। এর বাইরে নব্বই দশকের স্মৃতিকাতরতা এবং আমার অতি পছন্দের রাজশাহী শহর ও সেখানকার সংস্কৃতির টান আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। চিত্রনাট্য পড়ার আগেই নির্মাতার গল্প শুনে আমি অভিনয়ে রাজি হয়ে যাই।”
তিনি আরও জানান, ‘চিরকুট’ কোনো ধরনের সহিংসতাহীন একটি নিচ্ছক পারিবারিকভাবে উপভোগ করার মতো প্রেমের গল্প। সব বয়সী দর্শক প্রেক্ষাগৃহে বসে একসাথে অতীতের সেই মধুর স্মৃতির আবহ উপভোগ করতে পারবেন।
অভিনয় জীবনের বৈচিত্র্য ও নতুন কাজ
অভিনেত্রী হিসেবে বরাবরই ভিন্নমাত্রিক চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন নওশাবা। ২০২২ সালের ‘পাপবাজার’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কিংবা নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’-এর ‘অন্তরা’ নাটকে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি সাদাত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ চলচ্চিত্রেও নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি ‘ঝামেলা’ নামে একটি নতুন সিনেমার চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন, যা আগামী ঈদে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিচালনায় নতুন অধ্যায় ও ‘সোমেশ্বরী’
শুধু অভিনয়ের গণ্ডিতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি এই শিল্পী। সম্প্রতি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন নওশাবা। তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’ বর্তমানে সম্পাদনার শেষ টেবিলে রয়েছে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও আশপাশের হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিবেশ দূষণ এবং নদীকেন্দ্রিক জনপদের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। ‘গ্রীন ফিল্মস’-এর ব্যানারে এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া’র অধীনে নির্মিত ‘সোমেশ্বরী’ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর পাশাপাশি দেশের হাওরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের মাঝে দেখানোর বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর বাইরে মঞ্চ ও সামাজিক মাধ্যমেও সরব ভূমিকা রাখছেন তিনি। তথ্যচিত্র ‘আগুনী’র কাজের পাশাপাশি নিজের সামাজিক সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর অধীনে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগীত আয়োজন ‘ধরনীর গান’ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন নওশাবা। তবে নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সামাজিক প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকতার সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান এই গুণী অভিনেত্রী।
সমস্ত ব্যস্ততার মাঝেও আগামীকাল ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসতে যাওয়া ‘চিরকুট’ নিয়ে দারুণ আশাবাদী নওশাবা ও সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা।
