নবপ্রকাশ ডেস্ক: আগামী কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের ৯ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আগামী রোববার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে গিয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু নিম্নাঞ্চল সতর্কসীমায় যেতে পারে।
তবে বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। সুরমা নদীর পানি কমতে থাকায় ওই দুই জেলার বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান থেকে নতুন করে বড় ধরনের পানির ঢল না আসায় এবং বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ময়মনসিংহ-সিলেট অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী ৭ দিনে এসব এলাকায় ২৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
