তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পাওয়ার পর সতীর্থ মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে আলিঙ্গন ও ব্যাট উঁচিয়ে ধরার পর নিজের গায়ের জার্সির বাম হাতের অংশ ওপরে তুলে বাইসেপ্স দেখালেন ধ্রুব জুরেল। ক্যামেরা জুম ইন করতেই দেখা গেল, হাতের সেই অংশে হিন্দি হরফে লেখা ৪টি শব্দ!
শ্রীলঙ্কান ধারাভাষ্যকার রোশান অভিসিংহে কিছুই বুঝতে পারলেন না। তবে তার পাশে বসে থাকা সঞ্জয় মাঞ্জরেকার হিন্দিতেই বলে উঠলেন, ‘জয় জাওয়ান, জয় কিষান।’ যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘সৈনিকদের জয়, কৃষকদের জয়।’
কিন্তু হাতে কেন এমন লেখা? দিনের খেলা শেষে সেই কথা জানিয়েছেন জুরেল নিজেই। মূলত নিজের বাবা ও দাদার প্রতি সেঞ্চুরি উৎসর্গ করতেই এমন উদযাপন করেছেন ভারতের ২৫ বছর বয়সী উইকেটকিপার-ব্যাটার।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন চমৎকার এক সেঞ্চুরি করেছেন জুরেল। স্বীকৃত ব্যাটাররা ফিরে গেলে শেষ দিকে বোলারদের নিয়ে তিনি পৌঁছে গেছেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। তবে সেঞ্চুরির জন্য ৯৯ থেকে একশতে যেতে তার অপেক্ষা করতে হয় ১৩টি বল।
পরে আসিতা ফার্নান্দোর বল মিড অফের দিকে খেলেই দৌড় দেন জুরেল। দেরি করে ফেলেছেন বুঝতে পেরেছে দূর থেকে ডাইভ দিয়ে অল্পের জন্য রান আউটের হাত থেকে বেঁচে যান। আর এই রানেই পূর্ণ হয় টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
পরে সিরাজের সঙ্গে আলিঙ্গন ও ব্যাট উঁচিয়ে ধরার পর বাহুতে থাকা লেখাটি দেখিয়ে আবারও ব্যাট তুলে ধরেন জুরেল। দিনের খেলা শেষে এমন উদযাপনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
“আমার দাদা ছিলেন একজন কৃষক, আমার বাবা ছিলেন সৈনিক। এসবই আমার শেকড়, যেখান থেকে আমি উঠে এসেছি। আর আমি তা ভুলতে চাই না। ওই উদযাপনটি ছিল আমার বাবা ও দাদার জন্য।”
সেঞ্চুরির পথে জুরেলের সবচেয়ে বড় জুটি হয় রিশভ পান্তের সঙ্গে। ৩০৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর আবার ব্যাট করতে নামেন আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া পান্ত। পরে দুজন মিলে ১৫২ বলে গড়েন ১১২ রানের জুটি।
নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৮৯ বলে ৬৩ রান করে আউট হন পান্ত। পরে বাকিদের নিয়ে সেঞ্চুরি ও দলের পাঁচশ পূর্ণ করেন জুরেল। তবে পান্তের সঙ্গে ব্যাট করার আলাদা আনন্দের কথাই বলেন তিনি।
“আমরা সবাই জানি, পান্ত কতটা অসাধারণ খেলোয়াড়, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে ভারতের জন্য তিনি কী করেছেন। যখনই তিনি ক্রিজে থাকেন, আমি তার পরামর্শ চাই, কারণ তার অভিজ্ঞতা অনেক। কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত, সে বিষয়ে সবসময় তার কাছে পরামর্শ চাই।”
