ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » থাইল্যান্ডের ছুটি, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান: দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে চাকরি হারালেন এনবিআর কর্মকর্তা

থাইল্যান্ডের ছুটি, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান: দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে চাকরি হারালেন এনবিআর কর্মকর্তা

নবপ্রকাশ ডেস্ক: সরকারি ছুটির শর্ত ভঙ্গ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) ও কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার তানজিনা রইসকে সরকারি চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তানজিনা রইসকে এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করা হয়। ওই ছুটিতে তিনি থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি পান এবং ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি ভোগ শুরু করেন।

তবে নির্ধারিত সময় শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি। পরবর্তীতে এনবিআরের অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুমোদিত গন্তব্য থাইল্যান্ডের পরিবর্তে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশের জবাবে তানজিনা রইস ই-মেইলের মাধ্যমে দাবি করেন, তিনি ছুটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এনবিআর জানায়, সরকারি ছুটি সংক্রান্ত বিধি অনুসারে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তিনি আবেদন করেননি। ফলে তার দাবি গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এরপর ২০২৫ সালের ৪ মার্চ এনবিআর তার ছুটি বৃদ্ধির আবেদন বাতিল করে অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশও তিনি অনুসরণ করেননি এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিতই থাকেন।

এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।

বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব পান এনবিআরের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক। তদন্ত শেষে তিনি অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তানজিনা রইসকে দ্বিতীয় দফায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশন চাকরিচ্যুতির সুপারিশে সম্মতি দেয়। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে সরকারি চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, ছুটি গ্রহণ এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। অনুমোদিত গন্তব্য পরিবর্তন, যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান কিংবা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়। তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিধি-বিধান লঙ্ঘন করলে পদমর্যাদা বা অবস্থান নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে