জাহাঙ্গীর আলম, কোর্ট প্রতিনিধি: তীব্র যানজটের কারণে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯–এ নির্ধারিত সময়ে হাজির হতে পারেননি অভিনেত্রী পরীমনি। ফলে ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯–এর বিচারক মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর নার্গিস পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে অসুস্থতার কারণে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হতে পারেননি পরীমনি। পরে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ আগস্ট দিন ধার্য করেন। তবে নির্ধারিত দিনে তীব্র যানজটের কারণে যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালত আগামী ৩০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী ও শাহ শহিদুল আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি। মামলায় তিনি ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন।
পরীমনির অভিযোগ, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে তাঁর পূর্বপরিচিত তুহিন সিদ্দিকী কৌশলে তাঁকে সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ তাঁকে জোর করে মদ পান করানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন পরীমনি।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাসির ইউ মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী ও শাহ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নেন। ২০২২ সালের ১৮ মে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯।
অন্যদিকে, পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ। ওই মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন পরীমনি।
এদিকে ঢাকা বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা নাসিরের মামলাটির কার্যক্রমও আদালতে চলমান রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই দুই মামলায় একদিকে পরীমনির করা মামলায় নাসির ইউ মাহমুদসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়ে বিচার কার্যক্রম চলছে, অন্যদিকে নাসিরের করা মামলায় পরীমনি জামিনে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ৩০ নভেম্বর পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
