নবপ্রকাশ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরিকে হত্যা ও মরদেহ গুম করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুর সোয়া ২টার দিকে আসামি দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
আদালতে পেশ করা রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসছে। পুলিশ সেখানে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা একটি আইফোনের সূত্র ধরে পরবর্তীতে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নৌ পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঘটনার দিন নিহত সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন অভিযুক্ত দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছে, নিহত সাউরি তার সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামি দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে বের হয়ে প্রমাণ নষ্ট বা বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সেজন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
যেসব কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে: ১. হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও মোটিভ (কারণ) উদ্ঘাটন করা।
২. ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা।
৩. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা।
৪. নিহত তাহসিফ সাউরির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা।
৫. হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
শুনানিকালে আসামি দীপকে এজলাসে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
