স্বাস্থ্য ডেস্ক
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় উদ্বেগ হয়ে আছে। সাধারণত রোগের প্রকোপ বাড়লে প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অনেক সুপারিশই আর আলোচনায় থাকে না।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় অতীতের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দেওয়া একটি পুরোনো পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল।
২০১৭ সালে দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ বাড়ার পর বাংলাদেশকে পরামর্শ দিতে WHO-এর রোগতত্ত্ববিদ ড. কে কৃষ্ণমূর্তিকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তিনি দেশে অবস্থানকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করেন।
২২ পৃষ্ঠার ওই নথিতে মূলত দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা।
পরিকল্পনায় বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল রোগ দুটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা এবং বিদ্যমান প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কতটা কার্যকর, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা।
দ্বিতীয়ত, রোগতত্ত্ববিদ, কীটতত্ত্ববিদ, অণুজীববিজ্ঞানী, তথ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে একটি দ্রুত সাড়া দেওয়ার দল বা ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নয়, সরকারের মোট ১২টি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে যুক্ত করা। অর্থাৎ রোগ নিয়ন্ত্রণকে কেবল স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে আন্তঃমন্ত্রণালয়ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
পরিকল্পনাটি ২০১৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সে সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে পর্যালোচনাও করেননি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা কিংবা আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়েও প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
