ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বাড়ছে সুদ

ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বাড়ছে সুদ

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি ব্যয় মেটানো এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল আংশিক বাস্তবায়নের ফলে সরকারের সার্বিক ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যয় সামলাতে আগামী অক্টোবরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এই খবরে টাকা খাটানোর প্রতিযোগিতা কমায় দ্রুত নামতে থাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেজারি বিলের সুদের হার সাড়ে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এলেও গত রোববার তা বেড়ে প্রায় ৯ শতাংশে স্পর্শ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশে কাক্সিক্ষত নতুন বিনিয়োগ আসছে না। ফলে চলতি বছরের জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কম সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও উদ্যোক্তাদের দিক থেকে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। অলস ও উদ্বৃত্ত তারল্য জমা থাকায় এতদিন ব্যাংকগুলো সরকারি বিল ও বন্ডে টাকা বিনিয়োগের প্রতি বেশি ঝুঁকছিল। কিন্তু অক্টোবরে সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস পেয়ে ব্যাংকগুলো এখন সুদের হার বাড়াতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প খাত থেকে অর্থসংস্থান করা হলেও আগামী মাস থেকে মূল চাপটি আসবে ব্যাংক খাতের ওপর। ব্যাংকগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদের হারে। তবে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় এই সুদের হার অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়বে না বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে দুই অংকের ঘরে অবস্থান করা ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার গত ১৩ সেপ্টেম্বর কমে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে গত রোববার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশে। মে মাসে যা ছিল সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। সমান্তরালভাবে অন্যান্য বিল ও বন্ডেও সুদের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাজস্ব আদায়ে মন্দা, বৈদেশিক ঋণের নতুন ছাড়ের তুলনায় আগের ঋণ পরিশোধের চাপ বেশি থাকা এবং জ্বালানি আমদানির বাড়তি খরচের কারণে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার রেকর্ড ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিল।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সঞ্চয়পত্র থেকেও সরকার কাক্সিক্ষত অর্থসংস্থান করতে পারছে না। গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা পরিশোধেই সরকারের বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ফলে চলমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আসন্ন অক্টোবরে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে