আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির ওপর বড় ধরনের ধাক্কা দিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ‘কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এর একটি তিন বিচারপতির প্যানেল প্রেসিডেন্টের আরোপিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে ‘অবৈধ’ বলে রায় দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়েছে, ট্রাম্প কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করেছেন।
নিউইয়র্ক আদালতের ২-১ ব্যবধানের এই রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ ‘আইনত অননুমোদিত’ এবং ‘অকার্যকর’। গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের শুল্ক নীতি বাতিল হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার অধীনে এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই রায় দেয়।
প্রত্যাশিতভাবেই, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ভিত্তিক ‘ইউএস কোর্ট অফ আপিল ফর দ্য ফেডারেল সার্কিট’-এ আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রয়োজনে বিষয়টি আবারও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।
আদালতের এই রায়ের মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের মধ্যে যদি ২৭ সদস্যের এই ব্লক গত বছরের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত না করে, তবে ইইউ পণ্যের ওপর শুল্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা চুক্তির শর্ত মেনে তাদের শুল্ক শূন্যে (ZERO) নামিয়ে আনবে। আমি তাদের আমাদের দেশের ২৫০তম জন্মদিন পর্যন্ত সময় দিতে রাজি হয়েছি। অন্যথায় তাদের ওপর আরোপিত শুল্ক অবিলম্বে অনেক উচ্চ স্তরে চলে যাবে।”
সম্প্রতি ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, চলতি সপ্তাহ থেকেই ইউরোপীয় গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের সাথে একটি ‘চমৎকার’ ফোনালাপের পর তিনি সেই সময়সীমা ৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই বর্ধিত শুল্ক কেবল গাড়ির ওপর নাকি সমস্ত ইইউ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু অতিরিক্ত তথ্য:
১. প্রেক্ষাপট: গত বছর ট্রাম্প প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর দুই অঙ্কের (ডাবল ডিজিট) শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপরই তিনি বিকল্প হিসেবে এই ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্ক চালু করেন, যা আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২. রাজনৈতিক প্রভাব: ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্য নীতি এবং আদালতের সাথে তাঁর সংঘাত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
৩. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থান: অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দাবি করেছেন যে, এই অতিরিক্ত শুল্কের কারণে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
