নবপ্রকাশ ডেস্ক:
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত একটি ওষুধ কারখানার বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের টানা সোয়া তিন ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি; কারখানার ভেতরে আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটির ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে চেরাগআলী এলাকার ওই ওষুধ কারখানার বহুতল ভবনে হঠাৎ আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান শ্রমিকেরা। প্রাথমিক অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে কয়েকটি ইউনিট গিয়ে কাজ শুরু করে। তবে কেমিক্যাল ও ওষুধের উপাদান থাকায় আগুনের তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে উত্তরা, জয়দেবপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে একে একে অতিরিক্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিনির্বাপণে যোগ দেয়। সর্বমোট ২১টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুনায়েদ সাংবাদিকদের জানান, “ওষুধ তৈরির এই কারখানায় আগুন লেগে পাশাপাশি দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে একটি ভবনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক সতর্কতার কারণে কারখানার ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে ঘটনাটিতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
তিনি আরও জানান, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ (ডাম্পিং ডাউনের কাজ) এবং ডাস্ট-কেমিক্যালের ধোঁয়া মুক্ত করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি; এ বিষয়ে পরবর্তীতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
