ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » জরুরি সেবায় হাহাকার: আইসিইউ সংকটে ঝরছে প্রাণ

জরুরি সেবায় হাহাকার: আইসিইউ সংকটে ঝরছে প্রাণ

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন হু-হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। তবে সংক্রমণের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে আশঙ্কাজনক ডেঙ্গু রোগীদের জন্য জরুরি আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) শয্যা সংকট। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চড়া মূল্যেও আইসিইউ আইসিইউ আইসিইউ করে হন্যে হয়ে ঘুরে মিলছে না একটি শয্যা। ফলে সঠিক সময়ে আইসিইউ সহায়তা না পেয়ে অকালেই ঝরে যাচ্ছে শিশুসহ প্রাণবন্ত অনেক মানুষের জীবন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৫৪ জনে, আর প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে কেবল অক্টোবর মাসের প্রথম ১৪ দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন এবং মারা গেছেন ৭ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, যাদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জনের শারীরিক অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।

আইসিইউর খোঁজে স্বজনদের আর্তনাদ

সম্প্রতি আইসিইউ না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া রোগীদের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ৩৬ বছর বয়সী মো. খোরশেদুল আলমের ঘটনায়। তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেসরকারি সিএসসিআর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে। চিকিৎসকেরা জরুরি আইসিইউ পরামর্শ দিলে স্বজনেরা বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে একটি শয্যা মিললেও সেখানে নেওয়ার পথেই শনিবার মারা যান খোরশেদুল।

একই দিনে আইসিইউ শয্যার অভাবে প্রাণ হারিয়েছে হালিশহরের পাঁচ বছর বয়সী শিশু আনিশা নাথ। বাবা মিথুন নাথ জানান, চিকিৎসকেরা দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও ২৪ ঘণ্টা ধরে কোথাও কোনো শয্যা খালি পাওয়া যায়নি। অনেক কষ্টে একটি শয্যা মিললেও ভর্তির মাত্র তিন ঘণ্টার মাথায় শিশুটি মারা যায়। শয্যা না পেয়ে একই পরিণতি হয়েছে সাত বছরের শিশু অনুশ্রী দাশেরও।

চমেক ও বেসরকারি হাসপাতালের চিত্র

চট্টগ্রামের ৩০ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সরকারিভাবে মাত্র ৬০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। তবে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগের মুমূর্ষু রোগীদের কারণে সেখানে কোনো শয্যা খালি থাকা দুষ্কর। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অল্প কিছু আইসিইউ থাকলেও কেবল শয্যা বাবদ দৈনিক গুনতে হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সাধ্যের বাইরে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ জানান, “আমাদের হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক মিলে ৭০টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও রোগীর প্রচণ্ড চাপের কারণে এক মুহূর্তের জন্যও একটি শয্যা খালি থাকছে না।”

প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান আইসিইউ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেকেরই জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হচ্ছে, কিন্তু ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। সংক্রমণ না কমাতে পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এর একমাত্র সমাধান মশক নিধন।”

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, “নগরীর ডেঙ্গু হটস্পটগুলোতে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ক্রাশ প্রোগ্রাম, স্প্রে প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।”

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে