বিনোদন ডেস্ক:
বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের ষাটের দশকের জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেত্রী, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য নাসিমা খানের জানাজা ও শেষ দাফন আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) সম্পন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁর বড় ছেলে দেশে ফেরার পরই এই দাফনের আয়োজন করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তত দিন পর্যন্ত এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে (মর্গে) সংরক্ষিত থাকবে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রবীণ অভিনেত্রীর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। মায়ের হঠাৎ মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ছেলে দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবন সায়াহ্নে এসে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই কালজয়ী অভিনেত্রীকে। তাঁর ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত কয়েক বছর ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। সন্তান হারানোর গভীর কষ্ট বুকে নিয়েই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর আগে দুই ছেলের কারোর সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা করার সুযোগ পাননি এই অভিনেত্রী।
এর আগে, গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৮২ বছর বয়সী নাসিমা খান। প্রবীণ এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের গোড়াপত্তন ও সোনালী যুগের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’র মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে একক নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দর্শকমহলে ব্যপক জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
তাঁর পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবনে অভিনীত বেশ কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
