স্পোর্টস ডেস্ক: উত্তর আমেরিকায় ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ২২ দিন। ৩২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপ আবার ফিরছে মেক্সিকো, কানাডা ও আমেরিকার মাটিতে। এই মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রতিদিন ফুটবল বিশ্বের নানা রোমাঞ্চকর রেকর্ড ও অবিশ্বাস্য গল্প নিয়ে চলছে ক্ষণগণনা। কাউন্টডাউনের ২২তম দিনে আজ ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া। বিশ্বমঞ্চে অনেকেই তাদের ‘আন্ডারডগ’ বা দুর্বল দল ভাবলেও, বাছাইপর্বে তারা যে রেকর্ড গড়ে এসেছে, তা দেখে এখন বড় বড় পরাশক্তিদেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ।
১০ ম্যাচ, ০ গোল: আফ্রিকার অভেদ্য এক দুর্গ
২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কাটার লড়াইয়ে তিউনিসিয়া ছিল লাইবেরিয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, সাঁউ তুমি ও প্রিন্সিপে, মালাউই এবং নামিবিয়ার গ্রুপে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত পুরো বাছাইপর্বে অবিশ্বাস্য দাপট দেখিয়েছে তারা। মোট ১০টি ম্যাচ খেলে তিউনিসিয়া জিতেছে ৯টিতেই, আর নামিবিয়ার সাথে একমাত্র ম্যাচটি ড্র হয়েছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই ১০ ম্যাচের একটিতেও তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে কোনো প্রতিপক্ষ বল জালে জড়াতে পারেনি! ২২টি গোল করার বিপরীতে তারা গোল হজম করেছে একদম শূন্য (০)।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বিপক্ষে ম্যাচের ৯৪ মিনিটে মোহাম্মদ আলী বেন রোমধানের নাটকীয় গোলে জয় নিশ্চিত করে ‘কার্থেজ ঈগল’ খ্যাত তিউনিসিয়া তাদের বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত করে। পুরো আফ্রিকা মহাদেশ থেকে কেবল তিউনিসিয়া এবং আইভরি কোস্টই এক গোলও না হজম করে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
দলগত নৈপুণ্য ও বেন রোমধান ট্র্যাজেডি
তিউনিসিয়ার এই অপরাজেয় যাত্রার সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল তাদের দলগত পারফরম্যান্স। বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচে তিউনিসিয়ার ১৪ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন। এর মধ্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি গোল করে মূল নায়ক ছিলেন বেন রোমধান। তবে ফুটবল বিশ্বের জন্য বড় চমক হলো, বাছাইপর্বের সেই নায়ক বেন রোমধানকে তিউনিসিয়ার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডেই রাখা হয়নি!

গ্রুপ অব ডেথ ও অতীতের ফ্রান্স বধের প্রেরণা
ইতিহাস বলছে, এর আগে ছয়বার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও তিউনিসিয়া কখনো গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার হতে পারেনি। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তারা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল। শক্তিশালী ডেনমার্কের সাথে ড্র এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে অল্প ব্যবধানে হারার পর, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়া ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে। যদিও ফ্রান্স ততক্ষণে নকআউটে চলে গিয়েছিল, তাও তিউনিসিয়ার সেই জয় ফুটবল বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘এফ’-এ, যেখানে তাদের লড়তে হবে নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে। নিঃসন্দেহে এটি তিউনিসিয়ার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে বাছাইপর্বের মতো লোহা-কঠিন ডিফেন্স যদি তারা বিশ্বমঞ্চেও ধরে রাখতে পারে, তবে এই গ্রুপে যেকোনো বড় অঘটন ঘটানো তাদের পক্ষে অসম্ভব নয়।
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. ডিফেন্সিভ মাস্টারক্লাস: আধুনিক ফুটবলে যেখানে ক্লিন শিট রাখা কঠিন, সেখানে টানা ১০ ম্যাচ গোল না খাওয়া তিউনিসিয়ার ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার প্রমাণ দেয়।
২. এশীয় পরাশক্তির মুখোমুখি: গ্রুপ পর্বে জাপানের মতো গতিশীল এবং নেদারল্যান্ডসের মতো আক্রমণাত্মক দলের বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ার এই ডিফেন্সের আসল পরীক্ষা হবে।
