ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি: ৭ ও ৮ জুলাই, চলেছে টানা তিন দিনের ‘বাংলা ব্লকেড’  

গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি: ৭ ও ৮ জুলাই, চলেছে টানা তিন দিনের ‘বাংলা ব্লকেড’  

গণতন্ত্র, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলনে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আত্মত্যাগ, সাহস ও গণআকাঙ্ক্ষার সেই দিনগুলো আজও জাতির স্মৃতিতে অম্লান। জুলাই মাসের শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার ও কোটামুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই গণআন্দোলনের সূচনা হয়।
২০২৪ সালের ৬ জুলাই বিএনপির নৈতিক সমর্থন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সমর্থনের ফলে আন্দোলনকারীদের মনোবল বেড়ে যায়। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। হাজারো শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো অবরোধ করে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির করে দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর প্রধান সড়ক, রেললাইন ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। ২০১৮ সালের কোটা ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে তাদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
শুধু ঢাকাতেই শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, টেকনিক্যাল, জিরো পয়েন্ট, চকবাজারপুল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ও পল্টনসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধ গড়ে তোলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসব এলাকায় জড়ো হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় কারওয়ান বাজার রেলক্রসিংও প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য হলো, রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না। গত ১ জুলাই থেকে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মনোভাবই ছিল এমন।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। রাজশাহীতে আন্দোলনকারীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ করে রাখে।
আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকায় দেশব্যাপী বিভিন্ন ক্যাম্পাসের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ৬৫ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেন আন্দোলনের নেতারা। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় ঘোষিত কমিটির মাধ্যমেই সারা দেশের আন্দোলনের সমন্বয় করা হবে। আগামী ১০ জুলাই ২০২৪ আরও বৃহত্তর বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি গড়ে তুলতে  একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ তিনজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। তারা শিক্ষার্থীদের সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন, তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকা উচিত।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও পুনর্ব্যক্ত করেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আন্দোলনকারীদের উচিত রাজপথের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের বক্তব্য তুলে ধরা।
তবে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল তীব্র ক্ষোভ ও দৃঢ় প্রত্যয়। তাদের বিশ্বাস, আদালতের প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর, আর সরকার তাদের দাবির প্রতি উদাসীন। তাই তাদের কাছে এই অবরোধ কেবল একটি পরিপত্র পুনর্বহালের আন্দোলন নয়; এটি বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ ও ন্যায্য অধিকারের দাবিরও প্রতীক।
চলমান বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি টানা তৃতীয় দিনে গড়ায়, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই সূর্যাস্তের সময়ও অবরোধ অব্যাহত ছিল। আন্দোলনের সমন্বয়করা ঘোষণা দেন, আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন নতুন মাত্রা পাবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে