খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা মহানগরীতে পারিবারিক সম্পত্তি দখল, জাল দলিল তৈরি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নামজারি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী টিটু খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। তার অভিযোগ, পিতা প্রয়াত মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা জালিয়াতি ও দখলের ঘটনায় রূপ নিয়েছে।
দানপত্র অনুযায়ী বণ্টন, পরে বিরোধ
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জীবিত থাকাকালে তাদের পিতা আইনগতভাবে দানপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টন করে দেন। ওই দানপত্র অনুযায়ী ভবনের তৃতীয় তলা বড় ভাই শাহজাহান চৌধুরী, চতুর্থ তলা মেজ ভাই জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিপু এবং পঞ্চম তলা দুই ভাইকে যৌথভাবে প্রদান করা হয়। প্রথম তলা দেওয়া হয় অভিযোগকারী আলমগীর চৌধুরী টিটুকে। দানপত্রে কোনো বোনকে সম্পত্তির অংশ দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী টিটুর দাবি, দানপত্রে কোনো অংশ যৌথ না থাকলেও তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভাইয়েরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে সম্পত্তির দখল ও নামজারি কার্যক্রম শুরু করেন।
ভুয়া নামজারি ও ভাড়ায় দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে বড় ভাই সাবেক পতিত সরকারের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ও পদপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোপনে প্রথম তলার নামজারি নিজের নামে করান এবং সেখানে ভাড়াটিয়া বসান। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগও নিজের নামে চালু করেন।
এছাড়া দানপত্রে উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও ভবনের দুটি কক্ষ অন্য ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কক্ষে কেউ বসবাস না করলেও প্রশাসনিকভাবে অন্যদের নামে দেখানো হয়েছে।
জমি জালিয়াতি ও বিক্রির অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, খুলনা সদর উপজেলার একটি মৌজার ২৪৪ নম্বর দাগভুক্ত জমি জাল দলিলের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরএস মিউটেশন ও নামজারির কাগজপত্রও ভুয়া হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগকারী দাবি করেন, এ ঘটনায় কিছু ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকতে পারে। বিষয়টি জানার পর তিনি বিট অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা ভূমি অফিস তদন্ত শেষে নামজারি বাতিলের সুপারিশ করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভাড়া প্রদান বন্ধ রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারী জানান, তাকে এবং তার নিযুক্ত আইনজীবীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিকভাবে সাবেক প্রচেষ্টা সরকার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী হওয়ায় দেশে ফিরলে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে তার পরিবারও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ পরিস্থিতিতে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে—
* জাল দলিল বাতিল,
* অবৈধ নামজারি ও দখল উচ্ছেদ,
* অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ,
* নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
