ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » কালের কণ্ঠে অস্থিরতা, ১২ ঘণ্টায় তিন সম্পাদক; গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা

কালের কণ্ঠে অস্থিরতা, ১২ ঘণ্টায় তিন সম্পাদক; গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ একদিনের ব্যবধানে সম্পাদকীয় নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তন ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পত্রিকাটির সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বে তিনজনের নাম আসায় দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সকাল পর্যন্ত কালের কণ্ঠ-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। একই দিন সকালে পত্রিকাটির ম্যানেজিং এডিটর ও হেড অব নিউজ ফারুক মেহেদীকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল ৪টার দিকে তিনি সম্পাদকের চেয়ারে বসেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে কালের কণ্ঠের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাসান হাফিজ ওইদিন সন্ধ্যার পরও অফিসে অবস্থান করেন এবং রাত ৮টা পর্যন্ত দাপ্তরিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যেই আবার নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি।

জানা যায়, রাতেই ফারুক মেহেদীকে সরিয়ে ডেপুটি এডিটর মেহেদী হাসান তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে একই দিনে সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পদে তিনজনের নাম আসায় সংবাদকর্মীদের মধ্যেও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।

‘নামের বিভ্রাট’ দাবি কর্তৃপক্ষের

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটিকে ‘নামের বিভ্রাট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, “ভুল করে ফারুক মেহেদীর নাম লেখা হয়েছিল। দুইজন মেহেদী থাকায় এমন বিভ্রান্তি হয়েছে। পরে বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, হাসান হাফিজ সম্পাদক পদ থেকে সরে গেছেন এবং মেহেদী হাসান তালুকদার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তবে সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি হাসান হাফিজ। যোগাযোগ করা হলে তিনি শুধু বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

এক বেলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফারুক মেহেদী

দিনের বেলায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া এবং রাতেই সেই দায়িত্ব হারানো প্রসঙ্গে ফারুক মেহেদী বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এগুলো নিয়ে কিছু বলার নেই। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে। আমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব এবং যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে কাজ করব।”

তিনি আরও জানান, পদ পরিবর্তনের বিষয়টি তাৎক্ষণিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান তালুকদার চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ফারুক মেহেদীর নিয়োগ ও পরে তা বাতিল হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নেপথ্যে কী?

এই নাটকীয় রদবদলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ। তবে পত্রিকাটির একাধিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সম্পাদকীয় নীতিগত মতপার্থক্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা এ পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মীদের কয়েকজনের দাবি, সম্পাদকীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকদের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা এবং নিউজরুমের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ফারুক মেহেদী

সাংবাদিকতা অঙ্গনে অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত ফারুক মেহেদী অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল লিডার শেখ হাসিনা: দ্য প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সংকলিত গ্রন্থের সম্পাদনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। বইটিতে শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের মুকুটহীন রানী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

মেহেদী হাসান তালুকদারকে নিয়েও আলোচনা

নতুন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদারকে নিয়েও সহকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। কালের কণ্ঠের কয়েকজন কর্মী তাকে আওয়ামীপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করলেও তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও সক্রিয় নয় বলে জানা গেছে।

নির্বাহী সম্পাদকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের গুঞ্জন

পত্রিকাটির কয়েকজন কর্মীর মতে, বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীর সঙ্গে নিউজরুমের অন্য কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতবিরোধও এ অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাদের যুক্তি, সম্পাদকীয় শূন্যতায় নির্বাহী সম্পাদককে দায়িত্ব না দিয়ে তার অধীনস্থ দুই কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে হায়দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, “আমি মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলব।” পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

গণমাধ্যমে নতুন প্রশ্ন

 

বাংলাদেশের একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্পাদকীয় নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে কালের কণ্ঠের এই রদবদল শুধু প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেই নয়, পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না আসায় এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে কালের কণ্ঠের সম্পাদকীয় নীতি ও নেতৃত্বের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়েই এ রদবদলের প্রকৃত তাৎপর্য স্পষ্ট হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে