ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, এসপির ভূমিকা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ

কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, এসপির ভূমিকা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ

নবপ্রকাশ ডেস্ক: স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পর্যটন নগরী কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন নাজুক রূপ নেয়নি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, আইনজীবী ও সচেতন মহল। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) জেলায় ৮৮টি খুন, ১২৭টি ধর্ষণ এবং ২৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে ১৫০টিরও বেশি। এর বাইরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন এলাকাসহ পুরো জেলায় দৈনিক ১৫ থেকে ৩০টি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশি সহায়তার অভাবে অনেক ঘটনাই নথিবদ্ধ হচ্ছে না।

সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখানো এবং খোলা স্থানে গোলাগুলিতে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার পর বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় গানম্যান চেয়ে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা জজের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমানের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশ সুপারের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও আচরণ নিয়েও জেলাজুড়ে ও পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সমুদ্রসৈকতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডে মূল সন্দেহভাজন তারিনকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করা হলেও, মামলা ও তদন্তের আগেই সংবাদ সম্মেলন করে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন এসপি। পরবর্তীতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনাস্থা জানিয়ে বাদীপক্ষ মামলাটি পিবিআই-তে স্থানান্তর করেন।

এছাড়া খুরুশকুলে মন্দিরের সেবায়েত হত্যা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় এক সাংবাদিককে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রামু থানায় ইয়াবা চালান আত্মসাতের তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া ও অসংবেদনশীল আচরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের ভেতরের সূত্রের খবর, অভিজ্ঞ ও দক্ষ ১০১ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গণবদলির ফলে জেলা পুলিশিং ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, “আমি তো অথর্ব এসপি। আপনাদের প্রিয় এসপি যখন ছিল, তখনও মার্ডার এমন হতো।” সারা দেশে মৃত্যুর পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ খুন পারিবারিক ও পরকীয়া সংক্রান্ত কারণে হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এদিকে সার্বিক বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে