ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ওয়েবসাইটের ভুলে বিপত্তি: ব্যালন ডি’অরে একসাথে তিন বিজয়ী!

ওয়েবসাইটের ভুলে বিপত্তি: ব্যালন ডি’অরে একসাথে তিন বিজয়ী!

স্পোর্টস ডেস্ক:

অভিষেক বছরেই ব্যালন ডি’অরের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্যানলি ম্যাথিউস। তাঁর সেই গৌরবের স্মৃতির সুবাদে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইংলিশদের নিজস্ব আঙিনায় অর্থাৎ লন্ডনের মাটিতে বসা ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে ফের ঘুচল ইংল্যান্ডের আক্ষেপ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ সোনালি ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন। তবে মূল অনুষ্ঠান ও বিজয়ী ঘোষণার আগেই পুরস্কারটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে তিন সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম প্রকাশের এক চাঞ্চল্যকর ভুলে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক বিভ্রান্তি।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে মূল লড়াইটি মূলত সীমাবদ্ধ ছিল তিন তারকার মধ্যে—হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপে। শেষ পর্যন্ত তীব্র ভোটাভুটিতে বাকি দুই প্রতিন্দ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতে নেন বায়ার্নের এই গোলমেশিন। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে এক অবিশ্বাস্য মৌসুমে ৭৩টি গোল করেছেন কেইন। যদিও ইংল্যান্ডের জার্সিতে বিশ্বকাপ মিশনে তারা তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থেকেছিল, তবে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগাসহ গুরুত্বপূর্ণ দুটি ট্রফি জয় তাঁর পাল্লা ভারী করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল তিন প্রতিবেদন: এদিকে নাম ঘোষণার ঠিক আগপর্যন্ত কে জিতছেন এবারের ব্যালন ডি’অর, তা নিয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় থাকার কথা থাকলেও নাটকীয় এক বিপত্তি ঘটে। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ভুলবশত তিনজন ভিন্ন খেলোয়াড়কে বিজয়ী ঘোষণা করে তিনটি পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে ২০২৬ সালের ছেলেদের ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবে যথাক্রমে হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল এবং কিলিয়ান এমবাপের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

dhakapost

প্রতিবেদনগুলোতে এমবাপে, ইয়ামাল ও কেইন—প্রত্যেকেরই বিগত মৌসুমের পরিসংখ্যান ও বর্ণাঢ্য পারফরম্যান্স তুলে ধরে তাঁদের বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপনের যুক্তি দেখানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনই অফিশিয়ালি পুরস্কারটি জয় করায় তাঁর নামসংবলিত প্রতিবেদনটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয় এবং অন্য দুটি প্রতিবেদন মুহূর্তের মধ্যেই ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যে প্রতিবেদনগুলো কিছুক্ষণের জন্য লাইভ হয়েছিল, তার মধ্যে কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল—”বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আরও এক দফা গোলের বন্যা কিলিয়ান এমবাপেকে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে।” অন্যদিকে, টানা তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরা উদীয়মান ফুটবলার হিসেবে ‘কোপা ট্রফি’ জয়ী ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল—”মাত্র ১৯ বছর বয়সেই লামিনে ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হয়েছেন।” তবে ভুলবশত প্রকাশিত এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়।

ব্রিটিশ জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল স্পোর্ট’-এর তথ্যমতে, ওয়েবসাইটের এমন বড় ধরনের কারিগরি বা মানবীয় ভুলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ভীষণভাবে বিস্মিত ও বিব্রত হয়েছে। কীভাবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই খসড়া প্রতিবেদনগুলো লাইভ হয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং এর সঙ্গে জড়িত দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে