আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ জরুরি।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালে নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।”
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবিসহ নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যুব ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। মূলত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার কঠোর বিরোধিতায় এই অবস্থান কর্মসূচি ডাকা হয়।
কংগ্রেসসহ ভারতের প্রধান বিরোধী জোটের দলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়ার কারণে দেশের লাখ লাখ প্রকৃত নাগরিক ভোটাধিকার হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিল বিরোধীরা।
যন্তর মন্তরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধীর এই বার্তা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সিইসির পদত্যাগের পাশাপাশি সরাসরি সরকার পতনের ডাক দিয়ে তিনি ভারতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
