নবপ্রকাশ ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই ও কৃত্রিম সংকটের খড়্গ মাথায় নিয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিইআরসি অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অক্টোবর মাসের নতুন এই দাম ঘোষণা করা হয়, যা আজ রোববার থেকেই কার্যকর হবে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা করা হয়েছিল। তার আগের মাসেও এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।
মজুতদারি ও অসাধু সিন্ডিকেটের পাঁয়তারা
এদিকে দাম বাড়ানোর ঘোষণার আগেই বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপুল মুনাফা লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর কোম্পানির বিরুদ্ধে। দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই অসাধু পাঁয়তারার চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়—দেশে চাহিদামতো এলপিজি আমদানির পর্যাপ্ত চালান আসা সত্ত্বেও বাজারে কেন কৃত্রিম সংকট এবং ভোক্তাদের কাছ থেকে কেন বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে?
তবে লোটাব নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, বিশ্ববাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এলপিজির ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে এবং কমিশনের দাম সমন্বয় বাড়িয়ে দেওয়া হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
অপেক্ষমাণ জাহাজ ও কৃত্রিম মহাসংকট
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই দেশজুড়ে এলপি গ্যাসের মহাসংকট তৈরি করা হয়। বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার অনেক স্থানে বিক্রি হয়েছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে—মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে অনেক অপারেটর আগেভাগেই এলপিজি নিজেদের ট্যাংকারে মজুত করে রাখে। এমনকি ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বেশ কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজকে বঙ্গোপসাগরের সীমানার কাছে ভাসিয়ে রাখা হয়, যাতে দাম বৃদ্ধির পর সেগুলো খালাস করে বাড়তি মুনাফা পকেটে পোরা যায়।
মজুতদারদের এই অপকৌশল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সমন্বয়—সব মিলিয়ে নতুন করে দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলো বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
