প্রকাশিত সরকারি বুলেটিনে বিস্তারিত বলা হয়েছে, শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় পবিত্র মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের নিজস্ব কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) দূরদর্শী সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিশেষ সভায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় করণীয়, সৌদিতে তাঁদের আবাসন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সভায় প্রশাসনিক দলের অন্যান্য সদস্য, নিয়োজিত চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সকল হাজির ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) মোট ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিশেষ এই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যন্ত সফলভাবে অবতরণ করে। এ পর্যন্ত দেশে ফিরে আসা ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪১৬ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৫Target ৫ শত ৫৯ জন। ফিরতি এই যাত্রীদের নিরাপদে পরিবহণে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (Biman Bangladesh Airlines) ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমানসংস্থা সৌদি এয়ারলাইন্স (Saudi Airlines) ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স (Flynas Airlines) ৩ হাজার ৩০০ জন হাজিকে আকাশপথে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করেছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে এ পর্যন্ত যে ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে। বুলেটিনে দেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করে আরও জানানো হয় যে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় ও অত্যাধুনিক হাসপাতালে এখন পর্যন্ত মোট ১৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ২৬ জন হাজি আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে গত ১৮ এপ্রিল ছেড়ে গিয়েছিল এবং শেষ ফ্লাইটটি ২১ মে দেশ ছাড়ে। ফিরতি এই ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
