নবপ্রকাশ ডেস্ক:
হবিগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে এডিস ও সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ। দিন দিন পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে অন্তত ৪৬ জন রোগী হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১১৫ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেডিকেটেড হাম ওয়ার্ডের নির্ধারিত ২০টি শয্যার বিপরীতে ধারণক্ষমতার প্রায় ছয় গুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে রোগীদের বাধ্য হয়ে অপরিচ্ছন্ন মেঝে ও সিঁড়িতে গাদাগাদি করে অবস্থান করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ হাজার ৯৮৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৭৬১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও জটিল রূপ ধারণ করায় ১০৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ও ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। আকস্মিক রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান জনবল নিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনরা চরম অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নোয়াখাল চরগাঁও গ্রামের লাভলী আক্তার জানান, চার দিন ধরে শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, কিন্তু কোনো শয্যা পাননি। লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বিলকিস আক্তারের অভিযোগ, রোগীদের আধিক্যের কারণে সময়মতো চিকিৎসক বা নার্সদের দেখা মেলে না। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় মূল ওষুধপত্র সরবরাহ না করে অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বানিয়াচং সদরের ফরহাদ মিয়া ওয়ার্ডের তীব্র অপরিচ্ছন্নতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সুস্থ মানুষও হাসপাতালে এসে নতুন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া অনেক নার্স স্বজনদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
রোগীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার স্বীকার করেন যে জনবল ও শয্যা সংকটের কারণে সেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “ওয়ার্ডে শয্যা মাত্র ২০টি হওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি জানান, জেলাজুড়ে হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
