ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইলন মাস্ক যেভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার

ইলন মাস্ক যেভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার

নবপ্রকাশ ডেস্ক:
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, যিনি স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর প্রধান, তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হয়েছেন।

ট্রিলিয়ন ডলার মানে হলো এক হাজার বিলিয়ন ডলার। ১ সংখ্যার পর ১২টি শূন্য বসালে হয় এক ট্রিলিয়ন। যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে এক লাখ কোটি।

বেশ কিছু সময় ধরে মাস্ক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন, অথবা অন্তত সেই অবস্থানের কাছাকাছি ছিলেন। ফোর্বস-এর মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদ অর্জন করেন।

এক মাস পরে, টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন, যার সম্ভাব্য মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে, তার রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি স্পেসএক্স- যেটির মালিকানায় এক্স, গ্রক এবং স্টারলিংকও রয়েছে, সেটি পাবলিক হওয়ার পর মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
ইলন মাস্কের জন্ম কোথায়?
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে তৈরি চকলেট ইস্টার ডিম বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন।

তিনি তার শৈশবকে কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন, যা বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোম-এর কারণে সামাজিক সংকেত বোঝার অসুবিধার কারণে প্রভাবিত ছিল।

সুযোগ পাওয়ামাত্র তিনি পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে কানাডা, তারপর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়েন।
২০১০ সালে ম্যারি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে লেখা একটি প্রবন্ধে, তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, যার সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হন এবং ২০০০ সালে বিয়ে করেন, লিখেছিলেন, বিপুল অর্থ উপার্জনের আগেই মাস্ক ছিলেন “না-কে কখনও মেনে না নেওয়া একজন মানুষ”।

“প্রতিযোগিতা এবং আধিপত্য বিস্তারের ইচ্ছা, যা তাকে ব্যবসায় সফল করেছে, ঘরে ফেরার পরও তা থেমে যেত না,” বলেছিলেন জাস্টিন। তিনি জানান, বিয়ের নাচের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, “এই সম্পর্কে আমিই আলফা”, অর্থাৎ ইলন মাস্ক নিজেকেই প্রধান বা প্রভাবশালী মনে করেছেন।

সম্পদ তৈরি করলেন কীভাবে?
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর মাস্ক দ্রুতই তা ছেড়ে দেন এবং ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন।

এর মধ্যে ছিল একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি এবং একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পরে পেপ্যালে পরিণত হয় এবং ২০০২ সালে ই-বে’র এর কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়।

তিনি সেই অর্থ বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে যা নাসার তুলনায় কম খরচে বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। একইসঙ্গে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন টেসলায়, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে প্রধান নির্বাহী হন।
ইলন মাস্কের অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সামাজিক মাধ্যম টুইটার অধিগ্রহণ।

তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো এক্স-কে একটি “সবকিছুর অ্যাপ” হিসেবে গড়ে তোলা যা বিভিন্ন ধরনের সেবা এক জায়গায় এনে দেবে। তবে বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, মাস্ক যখন কিনছিলেন তখন কোম্পানিটির মূল্য ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছিল যা এখন ৯.৪ বিলিয়নে নেমেছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের নেতৃত্বে এক্স-এ ঘৃণামূলক বক্তব্য বেড়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায় না।

তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহী। চ্যাটজিপিটি- এর মূল কোম্পানিতে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী ছিলেন মাস্ক, তবে ২০১৮ সালে পৃথক হয়ে যান এবং ২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য “মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ বোঝা”।
সাংবাদিক ক্রিস স্টকেল ওয়াকার বলেন, “আমি কখনোই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না যে তিনি আগামীকাল কী করতে চান তা জানেন। তিনি মূলত অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যান।”

২০১৫ সালের একটি জীবনীতে লেখক অ্যাশলি ভ্যান্স তাকে “বিতর্কপ্রবণ সবজান্তা” এবং “প্রচুর অহংবোধসম্পন্ন” হিসেবে বর্ণনা করেন। তাকে নাচের ক্ষেত্রে ‘অস্বস্তিকর’ এবং বক্তা হিসেবে ‘অনিশ্চিত’ও বলা হয়েছে।

গণমাধ্যমে তাকে কখনও ‘উন্মাদ প্রতিভা’, কখনও ‘এক্স-এর বড় ট্রোল’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ইলন মস্কের। এর মধ্যে ব্রিটিশ অভিনেত্রী টালুলাহ রাইলির সঙ্গেই বিচ্ছেদ হয়েছে দু’বার। মাস্ক নিজের ত্রুটি সম্পর্কে অবশ্য বেশ খোলামেলা।
মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ কত?
ব্যক্তিগত নানা বৈপরীত্য ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি নিট সম্পদ অর্জন করেন বলে জানিয়েছিল ফোর্বস।

তিনি সম্পদের দিক থেকে গুগল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের ল্যালি এলিসন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের মতো ধনকুবেরদের চেয়েও সামনে এগিয়ে রয়েছেন।

স্পেসএক্স পাবলিক কোম্পানি হওয়ায় তার সম্পদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, ব্লুমবার্গ এবং ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী মাস্কের নিট সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।

ব্লুমবার্গের হিসাবে বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন।

তবে তার সম্পদের বড় অংশ স্পেসএক্সের শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত, ফলে শেয়ারের দাম কমে গেলে তার ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পরিবর্তিত হতে পারে।

টেসলা থেকেও তিনি বিপুল অর্থ পেতে পারেন, যদি নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কোম্পানির মূল্য আটগুণ বৃদ্ধি, ১০ লাখ এইআই রোবট বিক্রি এবং এক কোটি ২০ লাখ টেসলা গাড়ি বিক্রি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে