জহিরুল ইসলাম রাতুল: ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিভাজন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ২০২৬ সালের এই বহুল আলোচিত নির্বাচনে মোট তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জাতীয়তাবাদপন্থী সংগঠন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএ্যাব) অভিযোগ করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল “ফ্যাসিবাদ ও গুপ্ত নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে” এবং তাদের সঙ্গে বিএনপির “লেবাসধারী” কিছু নেতাও জোটবদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(আইডিইবি)-এর নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জাতীয়তাবাদপন্থী ডিইএ্যাবের কেন্দ্রীয় নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়ম, ষড়যন্ত্র ও “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিইএ্যাবের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আইডিইবির এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি অশুভ শক্তি সক্রিয় রয়েছে। ফ্যাসিবাদ ও গুপ্তচক্রের নেতৃত্বে একটি অপশক্তি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দলের কিছু লেবাসধারী সিনিয়র নেতা ব্যক্তিগত লোভ-লালসায় পড়ে সেই অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনো তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানাই। জাতীয়তাবাদের রাজনীতি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, এটি আদর্শের লড়াই। কিন্তু কিছু ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান ও সুবিধার জন্য জাতীয়তাবাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।”
ডিইএ্যাব এর আরেক নেতার অভিযোগ, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিবাদ ও “গুপ্ত শক্তিকে” নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী কর্মী ও সাধারণ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সংগঠনের আরেক নেতা বলেন, “সিনিয়রদের এমন আচরণে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত। যাদের নেতৃত্বে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, আজ তাদের একটি অংশকে ভিন্ন অবস্থানে দেখতে হচ্ছে। আমরা কখনোই তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘ পথ রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। এমন সময়ও ছিল যখন জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীরা আইডিইবির ভেতরে প্রবেশ পর্যন্ত করতে পারতেন না। অতীতে আমাদের প্যানেল দেওয়ার সুযোগও ছিল না। অসংখ্য আন্দোলন, নির্যাতন ও সাংগঠনিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা আজকের এই অবস্থান তৈরি করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এক নেতা বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও গুপ্তদের সক্রিয় অবস্থানের কারণে আমরা নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েরও আশঙ্কা করছি। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাতে পারে।”
তবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান ডিইএ্যাব নেতারা। তারা বলেন, “আইডিইবির যারা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে— তারা যেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করেন। ফেয়ার ইলেকশনের স্বার্থে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, আইডিইবি শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠন নয়, এটি দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার আদায় ও মর্যাদা রক্ষার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। তাই সংগঠনটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অস্বচ্ছতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় ডিইএ্যাবের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্যানেলের প্রার্থীরা এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।
