ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: দৌড়ে ন্যু ক্যাম্পও

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল: দৌড়ে ন্যু ক্যাম্পও

স্পোর্টস ডেস্ক:

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এই নিয়ে লড়াই এতদিন কেবল মাদ্রিদ ও মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ ম্যাচটি আয়োজনের জোরালো দাবি তুলেছে বার্সেলোনা। ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্বাগতিক হওয়ার ঘটনাটি এখন স্পেনের মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কার মধ্যে এক রোমাঞ্চকর ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে স্পেনের একমাত্র শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের বিবেচনায় এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মরক্কো তাদের নতুন রূপকল্প ও কাসাব্লাঙ্কার প্রার্থিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তুমুল প্রচারণা শুরু করে। সেই উত্তাপের মাঝেই নতুন করে পুনর্নির্মিত ‘স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু’-কে সামনে রেখে স্বাগতিক হওয়ার আনুষ্ঠানিক দৌড়ে নামল বার্সেলোনা।

বার্সেলোনার এই প্রার্থিতার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বিশ্বখ্যাত স্টেডিয়াম ‘ক্যাম্প ন্যু’-এর বিশাল দর্শক ধারণক্ষমতা ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প। চলমান ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে ২০৩০ সালের মধ্যেই স্টেডিয়ামটিতে রেকর্ড ১ লাখ ৪ হাজার দর্শক একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া ২০২৯ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্বও পেয়েছে এই স্টেডিয়ামটি। বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা প্রকাশ্যে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, বিশ্বমঞ্চের সবচেয়ে বড় এই আসরের সফল ফাইনাল আয়োজনের পূর্ণ সক্ষমতা ক্যাম্প ন্যু-এর রয়েছে।

অন্যদিকে মাদ্রিদের প্রধান শক্তি তাদের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং অত্যাধুনিক অবকাঠামো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সংস্কার কাজে গত জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১৪০ কোটি ইউরো বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর আওতায় মাঠের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ও আশপাশের পুরো এলাকা নতুন করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

তবে মরক্কোর প্রস্তাবিত পরিকল্পনা সবকটি বিশ্বমানের আয়োজনকে টেক্কা দেওয়ার মতো। দেশটির বেনস্লিমানে নির্মিত হতে যাওয়া ‘গ্র্যান্ড স্টেড হাসান টু’ স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণের ব্যবস্থা থাকবে। সফল হলে এটিই হবে তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়তনের স্টেডিয়াম। নতুন এই স্টেডিয়ামের পাশাপাশি মরক্কো তাদের বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ ও নগর পরিবহনেও অভাবনীয় বিনিয়োগ করছে।

তিন প্রার্থীর শক্তির জায়গাও বেশ আলাদা। বার্সেলোনা ভরসা রাখছে ক্যাম্প ন্যু-এর সুবিশাল ধারণক্ষমতা ও দ্রুত আধুনিকায়নের ওপর। অন্যদিকে মাদ্রিদের প্রধান শক্তি তাদের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও ইতোমধ্যে প্রস্তুত অবকাঠামো। আর মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা বাজি ধরেছে তাদের বিশাল ক্ষমতার নতুন স্টেডিয়াম এবং সরকারি বিশাল বিনিয়োগের ওপর।

শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্য, আধুনিকায়ন নাকি মেগা বাজেটের নতুন স্টেডিয়াম—কোনটিকে ফিফা প্রাধান্য দেবে তা সময়ই বলে দেবে। আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে