ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » হরমুজ প্রণালীতে ‘অবৈধ’ রুট বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

হরমুজ প্রণালীতে ‘অবৈধ’ রুট বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তথাকথিত ‘অবৈধ’ ও অননুমোদিত নৌযান চলাচল কঠোর হাতে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন সামরিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উক্ত প্রণালীর ওপর থেকে তেহরানের একক প্রভাব খর্ব করার দাবি করলেও, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে গোটা জলপথটির ওপর এখনও তাদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচিত এই প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচভাগের একভাগ পরিবাহিত হয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর মধ্যে বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যুদ্ধের পূর্বে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭২ ডলার থাকলেও তা একলাফে বেড়ে ১০১ ডলার অতিক্রম করে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নকদি এক কড়া বক্তব্যে জানান, ওমান উপকূল সংলগ্ন প্রণালীর কয়েকটি অননুমোদিত কৃত্রিম পথ খুব শিগগিরই পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে।

নকদি ব্যাখ্য দিয়ে বলেন, প্রণালীর প্রাকৃতিক পাথুরে পথগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে কিছু অবৈধ কৃত্রিম চ্যানেল তৈরি করা হয়েছিল। সেখান দিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্পীডবোট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চোরাচালানি চক্র বড় বড় বিদেশি ট্যাংকারে তেল পৌঁছে দেওয়ার অপচেষ্টা করছিল। তিনি যুক্তি দেন, সামুদ্রিক অপরাধীদের এই স্বল্প পরিমাণ গোপন পরিবহন কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরে এসেছে।

আইআরজিসির এই শীর্ষ নীতি নির্ধারক দৃঢ় কণ্ঠে পুনরুল্লেখ করেন, “হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ রয়েছে এবং এর ওপর আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে। তেহরানের ন্যায্য ও বৈধ দাবিগুলো মার্কিন পক্ষ পুরোপুরি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।”

অন্যদিকে সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি উত্থাপন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, কৌশলগত এই প্রণালী থেকে ইরানের একচ্ছত্র প্রভাব উঠে গেছে এবং জলপথটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে। রুবিও দাবি করেন, সংঘাত শুরুর পূর্বে ঠিক যে পরিমাণ তেল ওই প্রণালী দিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তার সমপরিমাণ তেল বহির্বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে।

একই সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাদের নৌবাহিনীর প্রত্যক্ষ পাহারা ও সহায়তায় প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাহী ট্যাংকারগুলো নিরাপদে চলাচল করছে, যার ফলে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল বিশ্ববাজারে প্রবাহিত হচ্ছে। বৈশ্বিক ডিজেল সংকটের বিষয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের চেয়েও ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে অব্যাহত ড্রোন হামলা ডিজেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে এ জাতীয় হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে সামুদ্রিক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়টার্স ও কেপলারের পর্যবেক্ষণ ও ভূ-উপগ্রহের প্রাক্কলিত তথ্যে দেখা যায়, বিকল্প সমুদ্রপথ ও ওমান উপসাগরের উপকূল ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দৈনিক গড়ে অন্তত ১৮.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে