ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » স্বাধীন দেশে কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি

স্বাধীন দেশে কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে গভীর আবেগ ও দৃঢ়তা ব্যক্ত করে বলেন, “আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এ স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।”

গুমকে সাধারণ কোনো অপরাধ নয় বরং জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “গুম শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না; কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তি। সংবিধান যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদী শাসনের আমলে গুম ও খুনের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার নির্মমভাবে পদদলিত করা হয়েছে।”

রাষ্ট্রপতি ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ নির্যাতনের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম এবং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত নিখোঁজ মানুষের কথা স্মরণ করেন, যাদের পরিবার এখনো চরম অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। এছাড়া আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল আজমী, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এমনকি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বহু মানুষকে বছরের পর বছর আয়নাঘরে বন্দি রাখা কিংবা ভিনদেশে ফেলে আসার চিত্র উল্লেখ করেন তিনি।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, কমিশন ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গুমের এই অপসংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি সুরক্ষা দিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, জীবিকা ও সর্বাত্মক পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে বলে জোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে