ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী কমার শঙ্কা

স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী কমার শঙ্কা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী ভোটারদের ব্যাপক ও অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক হলেও নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কম হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ নির্বাচন কমিশনের ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন।

ইসি সচিবালয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত খসড়া ‘জেন্ডার সমতা কৌশল’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং তা চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালায় নারীসহ সব লিঙ্গের মানুষের সমঅধিকার ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। জাতিসংঘ বাংলাদেশ এবং সংস্থাটির ‘ইউএন ইলেক্টোরাল প্রজেক্ট ব্যালট অ্যান্ড ড্রিপ’-এর কারিগরি সহায়তায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

কর্মশালায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “গণতন্ত্রের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত ও উপাদান হলো নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ। বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীদের উপস্থিতি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশকে বাইরে রেখে কখনোই গণতন্ত্রকে সুসংহত করা সম্ভব নয়।”

নারী প্রার্থীর সম্ভাব্য ঘাটতির পেছনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতাকে দায়ী করে সিইসি আরও বলেন, “সামাজিক সংস্কৃতি ও প্রথাগত বিশ্বাসের কারণে মানুষ সহজে পরিবর্তন মেনে নিতে চায় না। ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বললে আমরা বহুবার দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি। তাই এই প্রথা ভাঙতে হলে বড় পরিসরে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’-এর কান্ট্রি প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারীদের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে তাদের অর্থায়ন, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রযুক্তিগত নানাবিধ বাধা দূর করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকারে নারীদের সংরক্ষিত আসন রাজনীতিতে তাদের জন্য একটি বড় ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিগত নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশ কম ছিল। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্ব দিলে নির্বাচনেও প্রার্থী বৃদ্ধি পাবে।” তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নারী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক ভয়ভীতি, হয়রানি বন্ধ এবং নারী প্রার্থীদের জন্য পুরোপুরি সমান সুযোগ তৈরি করা আবশ্যক।

অন্যতম নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, “পাঁচ তারকা হোটেলে বসে নীতি বা কৌশল নির্ধারণ করলে প্রকৃত সাফল্য আসবে না। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। ফলে সমস্যার গভীরে গিয়ে একদম গ্রাম পর্যায় থেকে সংকটগুলো সমাধান করতে হবে।”

অপর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ তাঁর বক্তব্যে যোগ করেন, নারীদের রক্ষায় শুধু শক্ত আইনি কাঠামোই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে