আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে রাজ্যজুড়ে এক বিশাল প্রতিবাদ বিক্ষোভে সোচ্চার হয়েছে কংগ্রেসসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। ঐতিহাসিক এই কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ও বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
‘প্রটেক্ট ডেমোক্রেসি’ (গণতন্ত্র রক্ষা করুন) শীর্ষক এই যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করেন কংগ্রেসের লোকসভা সংসদ সদস্য বি. মানিকম ঠাকুর এবং তামিলনাড়ু রাজ্য কংগ্রেস কমিটি। ভারতীয় জাতীয় বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাতটি প্রভাবশালী শরিক দলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। গত ৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে যোগ দেওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে রাজপথে টিভিকের এটিই প্রথম যৌথ উপস্থিতি।
৯৭ লাখ ভোটার বাদ পড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা ভঙ্গের চরম অভিযোগ তোলেন। কংগ্রেস সংসদ সদস্য বিজয় বসন্ত অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এজেন্টের মতো কাজ করছে। গণতন্ত্র রক্ষায় স্বাধীন কমিশনের যে জবাবদিহি থাকার কথা, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অজুহাতে কৌশলগতভাবে তামিলনাড়ুর মূল ভোটার তালিকা থেকে ৯৭ লাখেরও বেশি নাগরিকের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম, আদিবাসী এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতি
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই বিক্ষোভে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকের প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও তামিলনাড়ুর স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এ. রাজমোহন।
এ ছাড়া বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচির (ভিসিকে) সভাপতি ও সংসদ সদস্য থল থিরুমাভালাভান, মারুমালারচি দ্রাবিড়া মুন্নেত্রা কাজাগামের (এমডিএমকে) সাধারণ সম্পাদক ভাইকো এবং রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী বামপন্থি দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ও সিইসির দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেন।
