ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » সাতক্ষীরা শ্যামনগরে আইএফএসডি ভিলেজের উদ্বোধন

সাতক্ষীরা শ্যামনগরে আইএফএসডি ভিলেজের উদ্বোধন

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ‘গ্রোওয়েল প্রকল্প’-এর আওতায় আইএফএসডি ভিলেজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে মাছ ধরা, কাঠ সংগ্রহ ও মধু আহরণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকেই বাঘের আক্রমণের শিকার হন। এতে একদিকে যেমন প্রাণহানি ঘটে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘গ্রোওয়েল প্রকল্প’-এর আওতায় তিনটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মো. সিদ্দিক গাজীর জন্য ‘মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ’, মো. মোবারক গাজীর জন্য ‘আরিশা এন্টারপ্রাইজ’ এবং মো. আতিয়ার গাজীর জন্য ‘সাজিদা স্টোর’ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পেশা থেকে বেরিয়ে এসে নিরাপদ ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ফাহাদ উজ্জামান খান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবদুল্লাহ শাহরিয়ার বিজয়, স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুর রহমান এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ‘গ্রোওয়েল প্রকল্প’ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা আরও পরিবারকে পুনর্বাসন এবং বিকল্প জীবিকার আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক পুনর্বাসনই নিশ্চিত করবে না, বরং সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশার ওপর নির্ভরশীলতাও কমাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করে উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারিত হলে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো নিরাপদ জীবিকার সুযোগ পাবে এবং বাঘের আক্রমণজনিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে